সবুজ পাতা’র স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা

হরিরামপুর,মানিকগঞ্জ : হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা ‘সবুজ পাতা’র স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে আজ ২৬ মার্চ ২০২৩, হরিরামপুর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির দেয়ালে। আমার লেখা ‘পূর্ণ চন্দ্র সেন : বিস্মৃতির কৃষ্ণচাদরে ঢাকা একজন দেবদূত’ শিরোনামে একজন দেশপ্রেমিক শিক্ষকের গল্প স্থান পেয়েছে এই দেয়াল পত্রিকায়।
১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন দেশের এক সুবর্ণ বিকেলে স্বপ্নমাখা চোখ আর আশাবাদী হাতে কলম ধরেছিলেন পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু স্কুলের এক প্রগতিশীল তরুণ শিক্ষক। নাম তাঁর হরিপদ সূত্রধর। তাঁর সম্পাদনায় যাত্রা শুরু ‘সবুজ পাতা’পত্রিকার, এই স্কুলেরই কোন এক দেয়ালে। অনুপ্রেরণায় যুগিয়েছিলেন স্কুলের তৎকালীন প্রধানশিক্ষক প্রয়াত সামসুদ্দিন আহমেদ। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই ‘সবুজ পাতা’ দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই সময়ে মানিকগঞ্জ শহরে পুরো জেলার দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতা হতো। ‘সবুজ পাতা’ সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতো।
‘সবুজ পাতা’র উদ্দেশ্য ছিল কিশোর, তরুণদের মননশীলতা, সৃষ্টিশীলতার উন্মেষ ঘটানো।
নানা প্রতিকূলতায় ১৯৮৫ সালে ‘সবুজ পাতা’ দেয়াল পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ হয়ে গেলেও পরবর্তীতে ‘সবুজ পাতা’ নামে স্কুল বার্ষিকী প্রকাশ হয় বাবু হরিপদ সূত্রধরেরই সম্পাদনায়। পরবর্তীতে ৩৯ বছর পর গত ২১ ফেব্রুয়ারি সংখ্যা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সবুজ পাতা দেয়ালে ফেরে।
এই অনাড়ম্বর এবং জৌলুসহীন দেয়ালের সাদামাটা ‘সবুজ পাতা’ দেখে আপনাদের পছন্দ নাও হতে পারে। তাতে ক্ষতি নেই! রাত জেগে হাতে দেয়াল পত্রিকা লিখে ৮৪ বছর বয়স্ক ‘চিরতরুণ’ বাবু হরিপদ সূত্রধর যে এখনো জীবনমনস্ক, সুন্দরমনস্ক হয়ে বেঁচে আছেন, ‘সবুজ পাতা’র স্বাধীনতা দিবস সংখ্যা দেয়ালে ওঠা সেই সাক্ষ্যই বহন করে।




