সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ২৬- ‘আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করুন’
প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ২৬ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।

অনুশীলন ২৬- ‘আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করুন’
আপনি যদি নিজেকে নিয়ে সুখী এবং সন্তুষ্ট থাকেন, তবে আপনার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস আছে একটি সাফল্যপূর্ণ জীবন পাওয়ার। আপনি কে, আপনি কী করছেন এবং কোন পথে অগ্রসর হচ্ছেন এ ব্যাপারে পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া খুব জরুরী। আপনি কী জানেন এবং কী না জানেন সে ব্যাপারেও স্বচ্ছ হতে হবে আপনাকে। আমি সাম্প্রতিক সময়ে একটি উক্তি পড়েছি, সেটি হলো- আমি আগে মানুষে পরিপূর্ণ একটি ঘর দিয়ে হেঁটে চলতাম এবং ভাবতাম ‘তারা কি আমাকে পছন্দ করে?’ এখন আমি চারপাশে তাকাই এবং ভাবি ‘আমি কী তাদের পছন্দ করি?’
এমন আত্মবিশ্বাস থাকা দোষের কিছু না কিংবা বহির্মুখীতার পরিচয় দেয়না বরং এটি বেশ জরুরী। নিজের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার জন্যেই এটি জরুরী।
বাস্তবতার জগতে আপনার চারপাশে যা হচ্ছে তা দেখে হয়তো আপনার আত্মবিশ্বাস কমতে ও বাড়তে পারে। আমরা অনেকেই এমন মন্তব্য শুনে মুষড়ে পড়ি। যেমন-
-কী! তুমি এখনো তোমার রিপোর্ট লেখা শেষ করোনি? আমি শেষ করে বসকে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং তিনি আমার খুব প্রশংসা করেছেন।
– তুমি দলে নির্বাচিত হওনি? সম্ভবত তুমি ভালোমত অনুশীলন করোনি। যাইহোক, পরের বারের জন্য শুভকামনা রইলো।
অন্য কারো ছোটখাটো কথা শুনে নিজের আত্মবিশ্বাস কমানোর কোন দরকার নেই। মানুষ আপনার সাফল্য দেখে ঈর্ষা করবেই। কিন্তু আপনি কেন থেমে থাকবেন? এমন মন্তব্য আপনাকে দুঃখী, রাগী ও জেদি করে তুলতে পারে কিন্তু এগুলোকে কখনো খুব ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। স্বাভাবিক মনে করে এগিয়ে যাবেন। আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে নিজেকে কীভাবে ভালোবাসা ও মূল্য দেওয়া যায়। আপনি যখন নিজেকে একবার মূল্য দেওয়া শুরু করবেন, কারো সাধ্য নেই আপনাকে থামিয়ে রাখে। নিজের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা শিখুন।

নতুন অবস্থানের মুখোমুখি হওয়া
পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মানুষেরা জানেন যে মাঝে মাঝে তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। নতুন নতুন অবস্থান এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া কঠিন হতে পারে কিন্তু অসম্ভব নয়। নিজেকে অনিশ্চিত ও অস্পষ্ট হওয়ার অনুমতি দিন। পৃথিবীতে কেউই সম্পূর্ণ নয়। সবার কাছেই সব কিছুর উত্তর নেই। এমন অবস্থায় এটা বলা মানায় যে ‘আমি আত্মবিশ্বাসী নই’। নিজেকে যথেষ্ট সুযোগ দিন যে কী করা উচিৎ এবং কী করা উচিৎ নয়। নিজের আত্মবিশ্বাসকে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে কাজে লাগানো শিখুন।
আত্মবিশ্বাসী হয়ে কাজ করা ‘আত্মবিশ্বাস’ বাড়ায়
মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় আমি প্রায়ই বলি যে ‘আপনি যদি ভিন্ন ভাবে কিছু করতে চান তবে সফল না হওয়া পর্যন্ত ভান করুন যে সফল হয়ে গিয়েছেন’। এমনভাবে অভিনয় করুন যে আপনি আপনার উদ্দেশ্য হাসিল করে ফেলেছেন। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এটি বেশ ভালোভাবে খাপ খাওয়ানো যায়। নিচের কাজগুলো করার চেষ্টা করুন, যেমন-
-আপনি নিজেকে নিয়ে স্বচ্ছন্দ এবং সুখী আছেন।
-আপনি যা করছেন তা নিয়ে আপনার কোন সমস্যা নেই।
-আপনি যে পথে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে আপনার কোন সন্দেহ নেই।
আপনার আশেপাশের মানুষ জানবেও না যে আপনার মনে কী চলছে। আপনি যদি আত্মবিশ্বাসী হয়ে সকলের সামনে যান তবে মানুষ আপনার সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করবে, কথা বলবে ও মিশবে। জানেন তো, আত্মবিশ্বাস কিন্তু ছোঁয়াচেও বটে! আপনি যদি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী থাকেন তবে আপনার আশেপাশের মানুষের মধ্যেও সেটি ছড়িয়ে যাবে।
জগতের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশিত হতে কোন ভয় পাবেন না। পৃথিবীর সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী মানুষও কিন্তু মাঝে মাঝে ভীত অনুভব করেন, মনে রাখবেন। প্রিয়.কম




