শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দাবিতে পদযাত্রা করেছে কলকাতার সোনাগাছির কয়েক হাজার যৌনকর্মী। পদযাত্রায় যৌনকর্মীরা ছাড়াও তাদের সন্তান ও বেশ কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন।
ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, পয়লা মে’র আগের দিন মঙ্গলবার বিকেলে সোনাগাছির শীতলা মন্দির এলাকা থেকে শুরু করে যৌনকর্মীদের একটি মিছিল বিধান সরণি, বিডন স্ট্রিট, হেদুয়া দিয়ে শ্রদ্ধানন্দ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে শেওড়াফুলি, উলুবেড়িয়া, বসিরহাটসহ অন্যান্য এলাকার যৌনকর্মীরা যোগ দেন। মিছিলকারীরা দাবি-দাওয়া জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি মশালও বহন করেন।
মিছিলে অংশ নেওয়া এক যৌনকর্মী জানান, সরকারি শ্রমদপ্তরে শ্রমিক হিসেবে যৌনকর্মীদের নথিভুক্ত করতে হবে। এটা আমাদের মূল দাবি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জানি না কবে মিলবে আমাদের শ্রমের স্বীকৃতি।
এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষে কাজল বোস বলেন, আমরা ২৫ বছর ধরে সরকারি শ্রমদপ্তরের তালিকায় যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে নথিভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছি। তাছাড়া ইমমরাল ট্রাফিকিং অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা বাতিল করতে হবে।
সোনাগাছির এক যৌনকর্মী অভিযোগ করেন, এখনো সমাজে নানা ধরনের অত্যাচার আমাদের সহ্য করতে হয়। কখনো চাঁদার জুলুম তো কখনো মাস্তানের চোখরাঙানি। তাছাড়া পুলিশের বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার রয়েছে। এসব জ্বালাতন সঙ্গে করেই আমাদের চলতে হয়। কিছু ঘটনা অন্তরালেই থেকে যায়। অনেকে পাশে থাকার কথা বললেও লড়াইটা অনেক ক্ষেত্রে নিজেকেই করতে হয়। এত কিছু সত্ত্বেও এখনো আমরা শ্রমের স্বীকৃতি পেলাম না। সরকারি শ্রমদপ্তরে যৌনকর্মী হিসাবে আমাদের নথিভুক্ত করতে হবে। এটা আমাদের অন্যতম মূল দাবি। জানি না কবে মিলবে আমাদের অধিকার।
কলকাতার সোনাগাছিসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিভিন্ন যৌনপল্লির যৌনকর্মীরা সরকারি নানা সুবিধা পাচ্ছেন। আধার কার্ড, রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যবিমাসহ অনেক প্রকল্পেরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু এখনো শ্রমিকের অধিকার না পাওয়া এবং তাছাড়া ইমমরাল ট্রাফিকিং আইন বাতিল না হওয়ায় আন্দোলন করে যাচ্ছেন তারা।
প্রসঙ্গত, সোনাগাছিতে বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন। পহেলা মে সোনাগাছিতে কাজও বন্ধ রাখেন যৌনকর্মীরা। এই দাবি নিয়েই গত কয়েক বছর ধরে লাগাতার আন্দোলন করে চলেছেন সোনাগাছিসহ রাজ্যের অন্য যৌনপল্লীর কর্মীরা।




