sliderমতামতশিরোনাম

শি জিনপিং এবং আগামী পাঁচ বছর

শাহীন রাজা : আবারও হয়তো শি জিনপিং তৃতীয়বারের মতো দলীয় প্রধান হবেন ! হয়তো না হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। তবে তৃতীয়বারের মতো পার্টি প্রধান হওয়ার মধ্য দিয়ে চীনের রাজনীতিতে এক নেতিবাচক মাত্রার সূচনা হবে। এবং আগামী পাঁচ বছর হবে শি জিনপিং-এর জনগণের অনীহা ও অনাস্থার বছর।
আজ বুধবার ১৬ অক্টোবর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ পূর্তির বছর। এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০ তম কংগ্রেস বা সম্মেলন। এই কংগ্রেসে শি জিনপিং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীন বিশ্বশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে এই স্বপ্ন উপস্থাপন করবেন। পাঁচ হাজার বছর পূর্ব চীন সভ্যতা যেভাবে পৃথিবীর মানুষের কাছে বিস্ময় ছিল। আবারও সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। চী আবারও তার পুনর্যৌবন ফিরে পাবে। এই স্বপ্ন নিয়ে আসবেন ২০ তম কংগ্রেসে।
চীনের এই নতুন যাত্রা অবশ্য ২০০৮ সালে বেজিং-এ অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক গেম থেকেই শুরু। এবং শি জিনপিং-এর প্রস্তুতি তখন থেকেই । ২০১২ সালের কংগ্রেসে তিনি প্রথম পার্টি প্রধান নির্বাচিত হন। এরপর সামনে চলা।দলকে আস্তে আস্তে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়া শুরু করেন। দলের ভেতরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের নানা কৌশলে সরিয়ে দেন। এরমধ্যে ‘বো ‘ জিয়ালাই উল্লেখযোগ্য। বো ছিলেন চীনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ‘ ইয়ো বো ‘র ছেলে। পন্ডিত এবং কেরেসম্যাটিক লিডার হিসেবে পরিচিতি পায়। বো হয়ে ওঠে শি জিনপিং-এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। শি জিনপিং নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন বো এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নাগরিক হত্যার অভিযোগ আনেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ আনা হয়। এবং তাঁর পলিটব্যুরোর সদস্য পদ নিয়ে নেয়া হয়। বিচারের মাধ্যমে স্বামী, স্ত্রী দুজনকেই আজীবন কারাবাস দেয়া হয়। বর্তমানে বো দম্পতি জেল জীবন কাটাচ্ছেন। এভাবেই শি জিনপিং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিয়েছেন। যাতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা না থাকে।
গত দু’বছর কোভিড মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ চীনের বিশাল জনগোষ্ঠীকে বিক্ষুব্ধ করেছে। ১৪০ কোটি লোককে গৃহবন্দী করে রেখেছে। তাদের চলাচলের সুযোগ একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়। স্বল্প আয়ের লোকেরা কাজে বেরুতে না পেরে সঙ্কটে পড়ে যায়। এছাড়া চীনা জনগোষ্ঠীর বিশাল কোভিড টিকার বাইরে রয়েছেন। এবং কোভিডে মৃত্যু সংখ্যাও পৃথিবীর মানুষের কাছে লুকানো ঐ দেশের জনগণ পছন্দ করেনি।
চীনের জনগণের নতুন বোধদয় এবং প্রচার হচ্ছে, উন্নয়ন মানে রাষ্ট্রের নয়। জনগণের হতে হবে। এবং এই উন্নয়ন প্রযুক্তিগত নয় মানবিক হতে হবে।
তাই সম্মেলনের প্রাক্কালে বেইজিংয়ের একটি ফ্লাইওভারে স্থানীয় জনগণ ঝুলিয়ে দিয়েছে, একটি উড়ালপুল থেকে ঝোলানো আরও একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘‘ধর্মঘট ডাকুন। একনায়ক ও বিশ্বাসঘাতক শি জিনপিংকে সরিয়ে দিন।’’ এবং শহরে পোস্টার মারা হয়েছে, একটি পোস্টারে লেখা হয়েছে, ‘‘করোনা পরীক্ষাকে না বলুন, খাদ্যের অধিকারকে হ্যাঁ বলুন। লকডাউন নয়, স্বাধীনতাকে আলিঙ্গন করুন। সাংস্কৃতিক বিপ্লব নয়, সংস্কার চাই। আমাদের মহান নেতা চাই না, ভোটাধিকার চাই। ক্রীতদাস না হয়ে নাগরিক হন।’’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button