শিবগঞ্জ মোকামতলা ইউনিয়নে জাল জন্ম সনদের ছড়াছড়ি! ধামাচাপা দিতে ২৫ হাজার টাকায় রফা !

কনক দেব,শিবগঞ্জ(বগুড়া)ও আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরো প্রধান : বগুড়া শিবগঞ্জ মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ এর পরিচালক আই টি উদ্যোক্তা ইউসুফ আলী ও নারী উদ্যোক্তা সীমা আক্তার দুই জন মিলে পরিষদের আইডি হ্যাক করে জাল জন্ম সনদ সাক্ষর করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউএনও সহ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে ইউপি সচিব টি এম হেলাল হাফিজ। অভিযোগ এর দুইদিন পর ঘটনা দফা রফা করার কথা বলে নারী উদ্যোক্তা সীমা আক্তারের কাছে থেকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে কৌশলে সচিব নিজে অভিযোগ করে আবার নিজে ও ইউসুফ আলী কে নিয়ে ২৫ হাজার টাকা সীমার কাছে থেকে নেয়া হয়েছে কতৃপক্ষ কে ম্যানেজ করার জন্য যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
জাল জন্ম সনদের ঘটনা ব্যাপারে মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ এর সচিব টি এম হেলাল ও পরিচালক আই টি ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে ভিডিও, অডিও, জাল জন্ম সনদ সহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ হাতে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদে সীমা আক্তার দীর্ঘদিন যাবৎ জম্ম সনদের কাজ করে আসছেন। এরা দুই জন সাধারন মানুষের কাছে থেকে টাকা নিয়ে শুধু উদ্যোক্তা ইউসুফ, সচিব চেয়ারম্যান এর স্বাক্ষর নিয়ে জাল জম্ম সনদ দিয়ে আসছে। গত ২৪ নভেম্বর পরবর্তী সময়ে ইউপি সচিব তার আইডি হ্যাক করে এই জাল জম্ম সনদ দেওয়ার কথা জানতে পেরে সীমা আক্তার ও উদ্যোক্তা ইউসুফকে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে সচিবের কক্ষে ডাকলে তারা দুজন দোষ শিকার করে।
ঘটনা টি সচিব তাৎক্ষনিক ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন। সীমা আক্তার ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করলে উদ্যোক্তা ইউসুফ আলী ও ইউপি সচিব কৌশলে সীমার কাছে থেকে ইউএনও অফিস কে ম্যানেজ করার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বৈধ জন্ম সনদ শিশু থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত কোন ফি লাগে না। ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা,ও ৫ বছরের উপরে সব বয়সীদের ৫০ টাকার ফ্রি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ চলে উদ্যোক্তা ইউসুফের নিয়মে। এলাকায় উদ্যোক্তা ইউসুফ আলী ও ইউপি সচিব টি এম হেলাল হাফিজ এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন হলো অভিযোগ উঠেছে বিস্তর। নাগরিক সনদ থেকে শুরু করে নাগরিক সেবার যে কোন কাজে টাকা ছারা কোন সেবা মেলে না বলে একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার শাহ আলম বলেন মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদ জাল সনদের কারখানা। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। আমি পরিষদে জন্ম সনদ উঠাতে গেলে আমার কাছে থেকে ইউসুফ আলী আমার ছেলের জন্ম সনদের জন্য টাকা নিয়ে সনদ দেয়। পরে দেখি ভুয়া। এখন আমি মহা বিপদে পরেছি। এছাড়া চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী আওলাদ চৌধুরী, সিএনজি ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম,ব্যবসায়ী শ্রী মানিক,কেজি ইস্কুলের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম,মেম্বার প্রার্থী আব্দুল আলিম চেয়ারম্যান প্রার্থী রবিউল হাসান মাসুদ, আওয়ামীলীগ নেতা এনামুল হক সহ একাধিক ব্যক্তি এই প্রতিবেদকের কাছে তাদের বিভিন্ন দুর্নীতি অভিযোগ করেন।
অভিনব কায়দায় জাল জন্ম সনদঃ জাল জন্ম সনদ নম্বর ২০০৩১০১৯৪৬৩০৩২৮৮৫,১১৮৪১০১১৪৬৩১০৭৫৪৭,১৯৮৭৯০১১৪৬৩১০৭০০২ সহ বেশ কিছু সনদ কম্পিউটারে দেখা গেছে প্রথমে সরকারি সার্ভারে থেকে আসল জন্ম সনদের নম্বর নেয়া হয়। তার পর চাহিদা অনুযায়ী, নাম, পিতার নাম,মাতার নাম,ঠিকানা বসিয়ে প্রিন্ট দেয়া হয়। পরবর্তীতে সনদের বৈধতা যাচাই করতে গেলে দেখা যায় সনদ নম্বর ঠিক আছে,নাম ঠিকানা পরিবর্তন! আবার কোনটির নাম সঠিক,নম্বর পর্রিবতন করে এভাবেই চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ জাল সনদ বিক্রি করে আসছে।
সচিব টি এম হেলাল এর বক্তব্যঃ আমার আইডি হ্যাক করে এরা জাল জন্ম সনদের ঘটনা ঘটায়। আমি এর আগে অনেক সাবধান করেছি।তারপরও এরা এসব করে। আমি ইউএনওর কাছে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছি। টাকা নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সচিব বলে, আমি টাকা নেই নি। প্রতিদিন পরিষদে দুপুর পর অফিস করার কারন জানতে চাইলে বলে ডিসি অফিসে কাজ থাকে। আমি এসব ব্যপারে চিন্তা করি না। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বড় বড় নেতা আছে আমার।
উদ্যোক্তা ইউসুফ আলীর বক্তব্যঃ আমার কথা সচিব বলে থাকলে মুখোমুখি হোক। তাহলে বোঝা যাবে টাকা কে নিয়েছে।
মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান এর বক্তব্যঃ পরিষদের ইউসুফ আলী সহ অনেকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনে আসছি। সীমার টাকা দেওয়ার ব্যাপারে আমিও শুনেছি। তবে গত ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আমাকে ইউএনও স্যার ডেকে এসব ব্যাপারে বলেছেন।
কম্পিউটার অপারেটর সীমা আক্তারের বক্তব্যঃ পরিষদে যা হবার হয়েছিল তা আমি মিটে ফেলেছি। এ ব্যাপারে আমি টাকা দিয়েছি। ওরা ইউএনও অফিসের কথা বলে টাকা নিয়েছে। আমি উদ্যোক্তা ইউসুফের অধিনস্ত আমি অসহায়।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম সম্পা জানান,বিষয়টি আমি শুনেছি চেয়ারম্যান কে বলেছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



