Uncategorized

শিক্ষা বিভাগের অবহেলা: অনার্সে ভর্তি হতে পারছে না

উচ্চ শিক্ষার পথ কি বন্ধ হয়ে যাবে দু’বোনের?

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: লেখাপড়ার প্রতি অদম্য দুই বোন বিনু খান ও ফাতেমা মিজান। বাড়ি মানিকগঞ্জের জয়রা নতুন বসতি এলাকায়। কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য অনার্সে ভর্তি হতে গিয়ে যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো এই দু’বোনের। যোগ্যতা থাকার পরেও শিক্ষা বিভাগের কর্তব্যে অবহেলার কারণে আবেদন করতে পারেননি তারা। ফলে দুই বোনের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে অনার্সের ভর্তি আবেদনের শেষ তারিখ। পরে বাধ্য হয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃস্টির জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন এই দুই বোন।
ভুক্তভুগী ছাত্রীদ্বয় বিনু খান ও ফাতেমা মিজান জানান, ২০১৩ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) হতে তারা দুই বোন এসএসসি পাশ করে। এর পর মানিকগঞ্জ খানবাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজ থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধিনে ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়। এবার অনার্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে অন-লাইনে বারবার চেস্টা করেও ভর্তির আবেদন ফরম ফিলাপ করতে পারল না।
ভর্তির আবেদন পত্রে এসএসসি ও এইচ এসসি পরীক্ষায় যাবতীয় তথ্য সংযোগ করতে হয়। ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষার তথ্য ওয়েব সাইডে থাকলেও ২০১৩ সালে বাউবি থেকে এসএসসি পরীক্ষার তথ্য ওয়েব সাইডে না থাকায় সেখানে ইনভ্যালিড লেখা ওঠছে।
যে কারণে অন-লাইনে ভর্তির আবেদন ফরম ফিলাপ করতে পারল না। এর পর মানিকগঞ্জ জেলা বাউবি অফিসে দুই বোন যোগাযোগ করলে তাদের বাউবি প্রধান কার্যালয় ও জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
গত বুধবার এই দুই বোন বাউবি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিটদের সাথে তাদের সমস্যার কথা বলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে বলেনি কেন তারা যোগ্যতা থাকা সত্বেও অন লাইনে ভর্তির আবেদন ফিলাপ করতে পারল না।
বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌসের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে তাদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগের আবেদন করেছেন।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস জানান, দুই বোনের উচ্চ শিক্ষার আগ্রহের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে আবেদন পত্রটি বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, এই দুই বোন যেন উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির আবেদনের সুযোগ পান সেটা তিনিও চান।
অপর দিকে গাজীপুর বাউবির প্রধান কার্যালয়ে স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস ডিভিশনের পরিচালক আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তার পারর্সোনাল এ্যাসিস্টেন্ট (পিএ) ফরিদা পারভীন জানান, ২০১৩ সালে বাউবি থেকে যারা এসএসসি পাশ করেছে তারা এবার অনার্সে ভর্তি হতে পারছে না। কারন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ওয়েব সাইডে নেই। অথচ যারা ২০১২ সালে এসএসসি পাশ করেছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ওয়েব সাইডে রয়েছে। যে কারনে ২০১২ সালে এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা অন লাইনে অনার্সে ভর্তি আবেদন করতে পেরেছে। এবার কি কারনে ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অনার্সের অন লাইনে আবেদন করতে পারল না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ে সাথে বাউবির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে এর চেয়ে বেশী কিছু তার জানা নেই বলে জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button