শিক্ষায় সুনাম অর্জন করছে মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্র

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর প্রতিনিধি :শিক্ষায় আলো ছড়ায়, দলিতদের ঘরে আলো ছড়াতে বারসিক সহযোগিতায় মনিঋষি যুবকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহন করেন। আমরা দলিত মনিঋষি এই বাংলা দেশের মানুষ হলেও, অন্য সমাজ ও গোষ্ঠীর মানুষের চেয়ে আমরা পিছিয়ে আছি। আমাদেরকে সমাজ ও দেশের মানুষ প্রান্তি জনগোষ্ঠী হিসাবে চিনে ও জানে। প্রান্তি জনগোষ্ঠী হিসাবে চিনা আমাদের কাছে ছোট মনে হয়। আমরা আর এই সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষ হিসাবে হাত উঁচু করতে চাইনা। আমরা সবার সাথে একই ¯্রােতধারাই এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ করে দিতে চায়। আমাদের বাচ্চাদের আনন্দ ফুর্তিতে মেধা বিকাশে সর্বোউঁচু স্থানে নিয়ে যেতে চাই।
এটা আমাদের স্বপ্ন ছিল, স্বপ্ন আমাদের পুরণ হচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে সুনামের সাথে শুরু করতে পেরেছি। আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হলেও আমাদের তৈরিকৃর্ত স্কুলে, লেখা পড়া করছে আমাদের ছেলে মেয়েরা। আমরা এই সুন্দর কাজটি করতে পেরেছি বারসিক আমাদের সাথে পথ দেখানোর কাজটি দারুনভাবে সহযোগিতা করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে এসে খেলা ধুলার পাশাপাশি লেখা পড়া করছে। এই স্কুল থেকে লেখা পড়া করে অন্য স্কুলে সুনামের সাথে পড়ছে। মনিঋষি শিক্ষার্থীগণ ক্লাসে মেধা স্থানে থাকায় মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্রগুলো সুনাম অর্জন করেছে।
মনিঋষি শিক্ষার্থীদের মা বাবাগণ সময় দিয়ে লেখা পড়া করার জন্য সময় ও সুযোগ দিচ্ছে। আমাদের কাছে এই কাজগুলো অকল্পনিয় হলে বর্তমান সত্য ও বাস্তবতা। এই কথাগুলো বলেন কালই হরিরামপুর মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি নিত্যমনি সরকার।
কালই মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক এসোনা মনিদাস মনিঋষিদের শিক্ষা স্বপ্ন পুরনের জন্য সরকারি বেসরকারি সেবা প্রাপ্তিতে যোগাযোগ ও উদ্যোগ গ্রহন করছে অভিবাবক ও মনিঋষি স্কুল পরিচালনা কমিটি সদস্যগণ। দলিত মনিঋষিগণ নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আমরা শিক্ষা কেন্দ্র করে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারায় আমাদের উন্নয়নে পথ প্রশস্ত হয়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সেবা সহযোগিতা পাচ্ছি।
আমাদের সাথে স্থানীয় সরকার ও সরকারি বেসরকারি অফিসের লোক জন যোগাযোগ করে সেবা সহযোগিতা দিয়ে উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। তাছাড়াও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক বাস্তবায়ণাধীন উন্নয়ন সহায়তা ২০১৬ সালে “কালই মনিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (প্রি-প্রাথমিক)” বরাদ্দকৃত অনুদান শিক্ষা বৃত্তি ২৬০০০০/- (দুই লক্ষ ষাট হাজার টাকা) পায়। উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে শিক্ষা বৃত্তি ও শিক্ষকের বেতন ও স্কুল ঘর তৈরি করা ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।
মানিকগঞ্জ সদর হাটিপাড়া পাওনান মনিঋষি শিক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি ময়ারাম মনিদাস বলেন আমরা মনিঋষিগণ পিছিয়ে পড়ে ছিলাম আমাদের ছোট ছেলেমেয়ে প্রাথমিকভাবে হাতে কলমে শিক্ষা শুরু করতে না পারায়। কারণ পরিবারের লোকজন কেউ অ, আ, ক, খ জানেন না। ফলে ছেলে মেয়েদের পাশে বসে যে শিক্ষা দেওয়া দরকার তা দিতে পারে না। যার কারণে দলিত মনিঋষি পরিবারের ছেলে মেয়েরা অশিক্ষা বড় হয়ে উঠে। বাইরের সমাজের লোক জনের সাথে মিশতে পারে না। সরকারি বেসরকারি অফিসের সাথে যোগাযোগের সুযোগ হয় নাই। ফলে দারিদ্রতা বাড়তে থাকে ও সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
তবে বারসিক সহযোগিতায় সকল মনিঋষিরা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে পারায় ছোট ছেলে মেয়েদের জন্য জনউদ্যোগে শিশু বিকাশ কেন্দ্র করে শিক্ষা দিতে পারায় আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা। স্কুলটি মন্দির ভিক্তি শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করে দেওয়া হয়। ফলে সরকারি বেতনে শিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীগণ বই খাতা কল সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। এই মনিঋষি স্কুল থেকে পড়ার ফলে সুনামের সাথে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ও মাধ্যমিক স্কুলে লেখাপড়া করছে। পরিবার ও দেশ সেবায় কাজ করতে প্রস্তুত হচ্ছে। মনিঋষি স্কুল কমিটি ও অভিবাবকগণ সম্মিলিতভাবে স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি দলিতদের অধিকার আদায়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বারসিক সহযোগিতায় পরিবারের বসত বাড়িতে শাক সবজি চাষ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জনসচেতনতায় কাজ করছেন।
মনিঋষি স্কুল কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার অগ্রগতি ও ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি। সরকারি সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে সহায়ক হয়। বসত বাড়িতে শাক সবজি চাষ ও বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তিতে সহায়ক হয়। দলিতদের অধিকার আদায়ে মনিঋষিগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।




