শারীরিক সম্পর্কহীন ৯ বছরের সংসার : বিয়ে বাতিল করে দিল আদালত
বিয়ের পর একে একে কেটে গেল ৯টি বছর। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যৌন সংসর্গ হয়নি। আর আদালতের শরণাপন্ন হলে সে বিয়েটাই বাতিল করে দেন বিচারক।
ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের ওই দম্পতির বিয়ে হয় ২০০৯ সালে। স্বামীর বয়স তখন ২৪, স্ত্রীর ২১। মহিলার দাবি, সাদা কাগজে সই করিয়ে তাকে ভুল বুঝিয়ে বিয়ে করানো হয়, ঠকানো হয় তাকে। যদিও তার স্বামী অস্বীকার করেন এই অভিযোগ। বিয়ের পর থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই লড়ছেন তারা।
বম্বে হাইকোর্টের বিচাররক মৃদুলা ভাস্কর তার রায়ে বলেন, বিয়ে যে ঠকিয়ে হয়েছিল তার কোনো প্রমাণ নেই। মহিলা প্রাপ্তবয়স্কা, শিক্ষিতা। সুতরাং ভুল বুঝিয়ে তাকে বিয়ের কাগজে সই করানো হয়েছিল মনে করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু যেহেতু স্বামী-স্ত্রী বিয়ের পর থেকে একদিনও একসঙ্গে থাকেননি, তাদের মধ্যে কখনো যৌন সংসর্গ হয়নি, তাই এই বিয়ে খারিজ করা হলো।
বিচারপতি বলেন, বিবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত যৌন সম্পর্ক। তার অভাবে বিয়ে অনেকটাই অর্থহীন হয়ে যায়। এমনকী মাত্র একবারও যদি তা ঘটে, তাহলেও বিয়ে সফল বলে ধরে নিতে হবে। এই মামলায় স্বামী যদিও দাবি করেন যে, তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হয়েছে। কিন্তু দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি মেনে বিয়ে বাতিল করা হলো।
স্বামী দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রী একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে তার প্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেননি। আদালত বলে, সমস্যা মিটিয়ে নেয়ার জন্য ওই দম্পতিকে আগেও পরামর্শ দিয়েছিল তারা, কিন্তু লাভ হয়নি।
মহিলার দাবি মেনে নিম্ন আদালত ডিভোর্স মঞ্জুর করলেও আপিলে যায় স্বামীর পক্ষ। কিন্তু হাইকোর্ট এবার মহিলার দাবিতেই সীলমোহর দিল।




