লোকসানের মুখে মানিকগঞ্জের কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: লবণের বাজারের অস্থিরতার ঢেউ লেগেছে কাঁচা চামড়ার বাজারে। সবচেয়ে কম দামে চামড়া কিনেও লোকসানের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চামড়া কিনে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন ঘিওর উপজেলাসহ জেলার পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীরা। তারা যে দাম দিয়ে চামড়া কিনেছেন, ট্যানারির মালিকরা ও আড়ৎদাররা তার চেয়েও কম দামে কিনতে চাইছেন। এ কারণে অধিকাংশ চামড়া এখনও ঢাকার বাইরেই রয়ে গেছে। এ অবস্থা বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এবার ফড়িয়াদের অনেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। পরে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী বেশি দাম দিয়ে ফড়িয়াদের কাছ থেকে চামড়া কিনেছেন। এরপর লবণ এবং শ্রমিক মজুরি মিলে আরও ৮ টাকা বর্গফুট খরচ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই, পূর্বনির্ধারিত প্রতি বর্গফুটের দাম ৪৫ টাকার বেশিও পড়েছে। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা কম মূল্যে চামড়ার দাম হাঁকালে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকেন এসব মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। মজুদের ব্যবস্থা না থাকায় তারা সারারাত জেগে থেকে ভোররাতে ও সকালে গরুর চামড়া প্রতি ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা ও ছাগলের চামড়া প্রতি ৩০টাকা থেকে ৪০ টাকা লোকসানে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়। এতে জেলার ২ শতাধিক মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর মোটা অংকের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, চামড়ার দাম কমে যাওয়ার কারণে অনেকে ঢাকায় চামড়া আনা থেকে বিরত থাকছেন। অনেকেই স্থানীয় বিভিন্ন আড়তে লবণ মেখে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানিকগঞ্জের পাইকারি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহে স্থানীয় অস্থায়ী মোকামগুলোতে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শুরু করেছেন।
ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রামের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সিদ্দক মিয়া জানান, বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তিনি ৩০পিস বিভিন্ন সাইজের চামড়া কিনেন। সারা রাত জেগে সকালে ১০ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন।
উপজেলা সদরের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন জানান, গরুর চামড়া গড়ে ১১শ’ টাকা এবং ছাগলের চামড়া গড়ে ৬০ টাকা দরে কিনেছেন তিনি। ঢাকায় চামড়ার দর কম এই অজুহাতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়ার দর গড়ে ৮শ’ টাকা ও খাসীর চামড়ার দর গড়ে ৪০ টাকা করে হাঁকেন।




