জাতীয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম এরদোগান ও এমিনির!

মিয়ানমারের মংডু রাশিডং বাজারবিল এলাকা থেকে সাত দিন হেঁটে গতমাসে উখিয়ার থাইংখালী ময়নাঘোনা নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন শফিকা। গত ১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ত্রিপলের তাবুতে জন্ম দেন একটি ছেলে সন্তান। এ সময় প্রচণ্ড রোদের মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। প্রসব বেদনায় যখন কাতরাচ্ছিলেন, তখন তার পাশে তেমন কেউ ছিল না। কোনো প্রকার ডাক্তার বা নার্স ছাড়াই তাবুতে আশ্রিত অন্য নারীদের সহযোগিতায় ফুটফুটে এক বাচ্চার জন্ম দেন শফিকা। আজ ১টার দিকে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার।
তিনি জানালেন, সুস্থ আছেন। তবে ক্ষুধার্ত। এটি তার প্রথম সন্তান। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে খেয়ে না খেয়ে সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেওয়ায় বেশ খুশিও তিনি। বাচ্চার নাম কী রাখলেন জানতে চাইলে বাবা নুরু ছলিম বলেন, এরদোগান। এরদোগান কেন নাম রাখলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের পক্ষে সর্বপ্রথম ডাক দিয়েছিলেন, তুরস্কের রাজা এরদোগান। তিনি তার স্ত্রীকে আমাদের দেখতে কুতুপালং ক্যাম্পে পাঠিয়েছিলেন। তার এই অবদানের কথা স্মরণে রাখতে সন্তানের নাম রেখেছি এরদোগান।’
একই ক্যাম্পে অবস্থানকারী ২৫ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী সেতারা। তিনি বললেন, নয় দিন আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে ইজ্জত ও জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশে। তার ছোট বোন আয়েশা এখানে এসে জন্ম দেন একটি মেয়ে সন্তান। এই ক্যাম্পে যেহেতু এরদোগানের জন্ম হয়েছে, সেজন্য আমার বোনের মেয়ের নাম রেখেছি এমিনি।
এখন সবাই এই ক্যাম্পের পাহাড়ের নাম দিয়েছে রাজার পাহাড়। রাজার পাহাড়ে এরদোগানকে দেখতে ছুটে এসেছেন- সমাধান শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড: নাজিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিচালক মোঃ নাজমুল হুদা অপু। তারা নবজাতক শিশুকে কোলে নিয়ে দোয়া করেন এবং দুধ ও শিশু খাদ্যের জন্যে আর্থিক সহায়তা দেন। এছাড়া সমাধানের পক্ষ থেকে মসজিদ ও রোহিঙ্গা শিশুদের জন্যে মকতব এবং শিশু শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছেন বলে নির্বাহী পরিচালক অপু জানিয়েছেন।
এছাড়া শুভার্থী সংসদ ঢাকার আহবায়ক গোলাম রাকিব ও সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান এরদোগান ও এমিনির পরিবারকে নতুন পোষাক, শিশু খাদ্য এবং টাকা বিতরণ করেন।
থাইংখালী ময়নাঘোনা ক্যাম্পের জামাল উদ্দিন জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আমাদের বাড়িঘর ধন সম্পদ সবই ছিল। এখন আমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আমাদের সন্তানরা আজ প্রতিনিয়ত নাফ নদীতে ভাঁসছে। এমন সময়ে ক্যাম্পে সন্তান জন্ম গ্রহণ আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কিছুই নয়। তাবুঁতে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থায় নারী ও শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখানকার অধিকাংশ রোগী নারী ও শিশু। রাখাইন রাজ্যে নিরীহ রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়ি-ঘর, লুট হচ্ছে সহায়সম্পত্তি। প্রাণ বাচাঁতে রোহিঙ্গারা দলে দলে এ দেশে পালিয়ে আসছে।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জনস্রোত কমছে না এখনো। রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নির্মম নির্যাতন নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা আসছে। তারা পাহাড় জঙ্গলে বসতি গড়ে তুলছে। মিয়ানমারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো একটা জাতিকে শেষ করা যায় না। এটা অত্যন্ত অমানবিক। যা মানবাধিকার লঙ্গন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button