জাতীয়শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের জন্য এক ইঞ্চিও বনভূমি নয় : সাবের হোসেন

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন শুক্রবার বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চিও বনভূমি দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের। যা পূরণ করা সম্ভব নয়।’
একাদশ জাতীয় সংসদের ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ৮ম বৈঠক শুক্রবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শহীদ জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে বন গেছে, গাছ নেই, পশুপাখিসহ ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য, ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন্যহাতি। এখন নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে পানি সংকট।
‘প্রায় ১০ হাজার গভীর নলকূপ থেকে প্রতিদিন পানি তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নিচে নামছে আর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে পানি সংকট। পানি সংকটের কারণে আগামীতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সবকিছু মিলে উখিয়া টেকনাফ এখন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে,’ বলেন তিনি।
পাহাট কাটা নিয়ে সাবের হোসেন বলেন, ‘যারা পাহাড় কাটবে তাদের রেহাই নেই। এনজিওরা পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্দিষ্ট স্থানে ৬৩টি হাতি রয়েছে। এসব হাতির চারিদিকে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বসতি। তাই হাতিগুলো বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এসব হাতি সুরক্ষার। বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য করিডোর করার পরিকল্পনা রয়েছে, যোগ করেন তিনি।
৮ম সংসদীয় কমিটির সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কী পরিমান পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়েছে এবং ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপনের জন্য কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি আগামী নভেম্বর মাসে তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।
কক্সবাজার শহরে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে সম্প্রতি শতাধিক মাদার ট্রি গাছ কাটার ব্যাপারে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, অনুমতি না নিয়ে নিজস্ব কমান্ডে গাছ কাটায় এখন কর্তনকৃত এসব গাছ বিক্রি ও বাইরে কোথাও নিয়ে যেতে পারবে না। এ ব্যাপারে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো: শাহাব উদ্দিন বলেন, সরকার পরিবেশ সুরক্ষার ওপর খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড় কাটা, বন ধ্বংস করাসহ নানাভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা হলেই মানুষসহ সমস্ত প্রাণীকুলের সুরক্ষা হবে।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, স্থায়ী কমিটির সদস্য জাফর আলম এমপি, আনোয়ার হোসেন এমপি, মো: মোজাম্মেল হোসেন, নাজিম উদ্দিন এমপি, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, উপসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : ইউএনবি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button