রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা বন্ধের দাবিতে আজ সোমবার ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: এএফপিরোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা বন্ধের দাবিতে আজ সোমবার ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: এএফপি
রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নৃশংসতার নিন্দায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সোচ্চার হয়ে উঠেছে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিক ও সাহায্য সংস্থার কর্মীদের ওপর আক্রমণ বন্ধের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রাখাইন সংকট নিরসনের মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি একটি উপায় বের করতে সক্ষম হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে বৃটেন। তবে ২৮ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ক্রমাঅবনতিশীল এ সংকট নিয়ে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
এদিকে রাখাইন সংকট নিরসনে মিয়ানমার সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনার জন্য ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি নেপিডো গেছেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি ঢাকাও আসবেন। সফরকালে তিনি দুই দেশে অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ সংস্থাগুলোর সাথে মতবিনিময় করবেন।
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতারেজ রাখাইনে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জাতিসঙ্ঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংবাদে মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মানবিক বিপর্যয় এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযত ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসঙ্ঘে সৌদি আরবের মিশন এক টুইট বার্তায় বলেছে, মুসলিম উম্মার নেতা হিসাবে দায়িত্ববোধ থেকে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানায় সৌদি আরব। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলায় ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের প্রতিও সৌদি আরব এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইনের ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়ানমারকে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য জাতিসঙ্ঘ আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিক্কি হেলি নিউ ইয়র্ক থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, অধিকতর সহিংসতারোধে বার্মার নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্বের সাথে বেসামরিক নাগরিকের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকা এবং দুর্গতদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার পথে বাধা সৃষ্টি না করাসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনকে সমুন্নত রাখার বিষয়টি জড়িত।
বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন লন্ডন থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অং সান সু চিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদানকারী নেতা হিসেবে সঠিকভাবেই মূল্যায়ন করা হয়। তবে রোহিঙ্গাদের প্রতি আচরণ মিয়ামারের সুনামকে ক্ষুণ্ণ করছে। আমি আশা করি (সু চি) এখন দেশকে একতাবদ্ধ করতে তার অসাধারণ সব গুণাবলী ব্যবহার করতে পারবেন, যা মুসলিমসহ অন্যান্য সম্প্রদায়কে সহিংসতা থেকে রক্ষা করবে।’
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিয়ানমার পাঠানো হয়েছে
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইডুডু জানিয়েছেন, মিয়ানমার নেতৃবৃন্দের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদিকে নেপিডো পাঠানো হয়েছে। মারসুদি জাতিসঙ্ঘের সাথেও আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সরকারকে সহিংসতা বন্ধ, মিয়ানমারের মুসলিমসহ সব নাগরিককে নিরাপত্তা দেয়া এবং সাহায্যকর্মীদের সহায়তা পৌঁছে দেয়ার অনুমিত দেয়ার অনুরোধ জানাবেন।
প্রেসিডেন্ট উইডুডু বলেন, রাখাইন সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সেখানে মানবিক সংকট নিরসনে সহায়তা দিতে ইন্দোনেশিয়া সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে মারসুদি ঢাকাও যাবেন।




