
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তবে অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও স্বার্থান্বেষী মহলের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার খায়েশ বলে দাবি করেছেন ভিসি।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত ওই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে। অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) ড. মো: ফখরুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম।
কিছুদিন আগে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারী স্বাক্ষরিত ১২ দফা অভিযোগ এনে ইউজিসির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী একজন প্রোভিসি নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে ভিসি কোনো উদ্যোগ নেই।
কোষাধ্যক্ষ পদ ২০১৩ সালের আগস্টে শূন্য হলেও সে পদ পূরণের উদ্যোগ নেই। এ ছাড়াও তিনটি অনুষদের ডিন, তিনটি বিভাগের প্রধান ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালকসহ একাই ১৭টি পদের দায়িত্ব পালন করছেন! ভিসির ধারাবাহিক অনুপস্থিতিতে এই ১৭ পদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউজিসির সুপারিশ ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ২০০৯ সালে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরিচালক হিসেবে গত তিন বছরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার কোনো উদ্যোগ নেননি ভিসি। এ ইন্সটিটিউটের অধীন আটজন কর্মকর্তা ও পাঁচজন কর্মচারী থাকলেও তাদের কোনো কাজ নেই।
অভিযোগে বলা হয়, বহিরাগত দুষ্কৃতিকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর গত বছর হামলা চালালেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থাই নেননি ভিসি। আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগের একটি আবেদন বাতিল করলেও সেই প্রার্থীকে নিয়ম অমান্য করে নিয়োগ দেওয়াসহ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্তদের বাঁচানোর অভিযোগ করা হয় অভিযোগপত্রে। এছাড়াও অভিযোগপত্রে বলা হয় ভিসির ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বর্তমানে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ভিসি গত তিন বছর এক মাসে ৪৯৫ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে এ অচলাবস্থা তৈরি করেছেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আর এম হাফিজুর রহমান জানান, আমরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। ইউজিসি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা চাই গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ।
ভিসি অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অসৎ উদ্দেশ্য ও দাবি পূরণ না করায় তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সরকারের সাথে আলোচনা করেই সকল সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও নিয়ম মেনে হয়েছে এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে।




