Uncategorized

রেকর্ড গড়ে হেরাথের হ্যাটট্রিক

বয়স ৩৮. তবে সেটা আসলে সংখ্যা মাত্র। কারণ হেরাথ এখনো ‘তরুণ’. আর এই ৩৮ বছর ১৩৯ দিনের ‘তরুণ’ আজ অনন্য এক কীর্তি গড়লেন। টেস্ট ক্রিকেটে ৪১তম হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। সাথে গড়লেন রেকর্ড, সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করার।
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গল টেস্টের দ্বিতীয় দিন সকালে টানা তিন বলে হেরাথ ফেরান অ্যাডাম ভোজেস, পিটার নেভিল ও মিচেল স্টার্ককে। ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডের জনি ব্রিগসের পর এই প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন কোনো বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার।
শ্রীলঙ্কার মাত্র দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করলেন হেরাথ। টেস্টে দেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন নুয়ান জয়সা। ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে ইনিংসের দ্বিতীয় আর নিজের প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলে উইকেট নিয়েছিলেন দীর্ঘদেহী বাঁহাতি এই পেসার।
১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বরে এই গলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল হেরাথের। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৭ বছর পূর্তির কাছাকাছি গিয়ে এই একই মাঠে, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দারুণ এক কীর্তিতে নাম লেখালেন ইতিহাসে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই নিয়ে হ্যাটট্রিক হলো নয়টি। সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিক তাদের বিপক্ষেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হয়েছে ছয়টি।
২ উইকেটে ৫৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা অস্ট্রেলিয়া সকাল থেকেই ধুঁকেছে লঙ্কান স্পিনে। দিলরুয়ান পেরেরা ফিরিয়ে দেন উসমান খাওয়াজাকে, হেরাথ বোল্ড করলেন স্টিভেন স্মিথকে।
মিচেল মার্শ ও অ্যাডাম ভোজেস চেষ্টা করছিলেন খানিকটা প্রতিরোধের। হেরাথের স্পিনে সব ভেঙে চুরমার।
হ্যাটট্রিক উইকেটের প্রথমটিতে বড় অবদান ফিল্ডারেরও। ভোজেসের ড্রাইভ এক্সট্রা কাভারে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় মুঠোবন্দি করেন দিমুথ করুনারত্নে। পরের বলটি আর্ম ডেলিভারি, নেভিল বুঝতেই পারেননি। সাদা চোখেই ধরা পড়েছে পরিষ্কার এলবিডব্লিউ।
হ্যাটট্রিক ডেলিভারিটি ছিল উল্টো। খালি চোখে মনেই হয়নি আউট। ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, অফ স্টাম্পের বাইরে। বলের উচ্চতা নিয়েও ছিল সংশয়। আম্পায়ার ক্রিস গ্যাফানি আউট দেননি। হেরাথ বা অধিনায়ক ম্যাথিউসের শরীরী ভাষায়ও ছিল না আশার ইঙ্গিত। হ্যাটট্রিক ডেলিভারি বলেই হয়ত অনেকটা ভেবে শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন ম্যাথিউস।
সেই রিভিউয়ের ফল লঙ্কানদের জন্য বয়ে আনে আনন্দময় বিস্ময়। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত ঘুরিয়ে আউট দিতেই হেরাথকে আকাশে তুলে নেন সতীর্থরা। উল্লাস ড্রেসিং রুমের ব্যালকনিতে, গ্যালারিতে। জয়সার হ্যাটট্রিকের সময় যিনি ছিলেন অধিনায়ক, এখন প্রধান নির্বাচক, সেই সনাৎ জয়াসুরিয়া দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তালি দিয়ে গেলেন ক্রমাগত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button