মহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে নার্সসহ আরও চারজন সংক্রমিত

রাজশাহীতে নার্সসহ আরও চারজনের নমুনায় করোনাভাইরাস পজেটিভ পাওয়া গেছে। এসব নমুনা ঢাকার আইইডিসিআর এ পরীক্ষা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীর চারজনের করোনাভাইরাস পজেটিভের কথা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহীতে করোনা পজেটিভ শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচলক ডা. গোপেন্দ্র নাথ আচার্য বলেন, গত ২২ এপ্রিল রাজশাহী থেকে বেশকিছু নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সেগুলো মঙ্গলবার পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্য রাজশাহীর চারজনের নমুনায় পজেটিভ এসেছে বলে ফোন করে জানানো হয়েছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসক হামিদুল হকও জানান, ঢাকায় পাঠানো নমুনা থেকে চারজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোহনপুরে দুইজন, তানোরে একজন ও পবায় একজন। পবায় করোনা পজেটিভ ব্যক্তি একজন স্বাস্থ্যকর্মী বলে জানা গেছে।
করোনাভাইরাস পজেটিভরা হলেন, মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভার তসোপাড়ার খয়বর রহমানের ছেলে ফারুক হেসেন (২৮), হরিদাগাছি গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে আলামীন (২৫), তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউপির হাপানিয়া দোগাছী গ্রামের জার্জিসের ছেলে নসিব (২০) এবং পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স মাহমুদা বেগম (৫০)। এদের মধ্যে মোহনপুরের ফারুক হোসেন ঢাকায় বেসরকারি কোম্পানিতে ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। গত ১১ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফিরেন। তিনিসহ তার পরিবারের তিন সদস্য অসুস্থ্য রয়েছেন। মোহরপুরের আলামীন গাজীপুরে পোষক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনিও সম্প্রতি বাড়ি ফিরেছেন। পবার মোছা. মাহমুদা বেগম ( ৫০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স পদে কর্মরত আছেন। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোয়ার্টারে থাকেন। তিনি হেড নার্সের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তানোরের নসিব গত ২২ এপ্রিল ভারত থেকে ফিরে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।
এদিকে মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে একজনের নমুনায় করোনাভাইরাস পজেটিভ পাওয়া যায়। পজেটিভ খায়রুল ইসলামের (৪১) বাড়ি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গোয়ালা ইউপির কামাশপুর গ্রামে। তিনি সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে নওগাঁ জেলায় দুইজন করোনা পজেটিভ রোগি শনাক্ত হলেন।
রামেক ল্যাব সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ৯৪ নমুনা পরীক্ষায় ৭৫ জনের ফলাফলের একটি পজেটিভ। গুণাগুণ নষ্টের কারণে বাকি ১৮টি নমুনার ফলাফল পাওয়া যায়নি। এদিন ল্যাবে আসা আরও ৬৩ নমুনার ১৮টি মোহনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৮ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল প্রথম রাজশাহীতে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্ত হয়। ২৬ এপ্রিল শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে। ২৮ এপ্রিল দাঁড়ায় ১৩ জনে। এর মধ্যে পুঠিয়ায় পাঁচ, বাগমারায় এক, মোহনপুর চার, বাঘা উপজেলায় এক, তানোরে এক ও পবায় একজন। রবিবার সকালে বাঘার বৃদ্ধ আব্দুস সোবহান মারা যান। শনাক্তদের ১১ জনই বাইরে থেকে এসেছেন।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button