
শাহীন রাজা : মিয়ানমারের, রাখাইন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সহ অবস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে তৎপর। তেমনি চীনও তার একছত্র অধিপত্য বজায় রাখতে নতুন অক্ষশক্তি গড়ে তোলায় ব্যস্ত।
রাশিয়ার সাথে অনেক আগেই আগেই পুরানো বন্ধুত্ব নবায়ন করে নিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের সাথেও বন্ধুত্বের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । এটা বাস্তবায়ন হলে বিশ্বে এক নতুন অক্ষশক্তি গড়ে উঠবে।
চীন অনেকদিন ধরেই এই অঞ্চলের নেতৃত্ব দেওয়ার পথে হাটছিল। যার মধ্যে আছে সিল্ক রোড। তারপর তারা ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড কর্মসূচি গ্রহণ করে। অবশেষে বিশ্ব রাজনীতিতে অক্ষশক্তি রূপায়নের উদ্যোগ। এখন এটা বাস্তবায়নে মহাসড়কে নেমেছে।
চীনের এই উদ্যোগেকে পুতিনের সহযোগিতার ত্বরান্বিত করেছে। ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিল, দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চল লাদাখ থেকে চীনের সেনাবাহিনী সড়িয়ে নেয়া। এই ব্যাপারে চীন কোন আগ্রহ বা সাড়া দেখায়নি। কিন্তু পুতিনের মধ্যস্থতায় তা সফল হয়েছে। সম্প্রতি উজবেকিস্তানের রাজধানী সমরখন্দে অনুষ্ঠিত সামিট ” সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশান ( এসসিও )। ” চীন ও ভারতে বন্ধুত্বের চলা অনেকদুর এগিয়ে নিয়েছে।
যার প্রথম ধাপ হিসেবে ভারত চীনের সাথে ‘ইউয়ান’ ব্যবহারের মাধ্যমে বানিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলবে। এছাড়াও ভারত তার বিচ্ছিন্নবাদী বিদ্রোহী দমনেও মিয়ানমারের সহযোগিতা প্রয়োজন। চীনের সাথে একটা সুসম্পর্ক থাকলেই তা সম্ভব। রাখাই অঞ্চলে চীন ইপিজেড অঞ্চল গড়ে তুলছে। ভারত এখান থেকেও বানিজ্যিক সুবিধা নিতে চায়। একারণেও ভারত চীনের সাথে সুসম্পর্ক চায়।
এদিকে পশ্চিমা বিশ্ব মনে করে, ভারত মহাসাগর দিয়ে ৬০ শতাংশ বানিজ্য হয়। এই রুটটি নিয়ন্ত্রণে রাখা তাদের জন্য খুবই জরুরী। এর নিয়ন্ত্রণ কোনভাবেই হাত ছাড়া করা যাবে না। এর বাইরে চীনের আগ্রাসন প্রতিহত করতে হলে এখনই কিছু একটা করতে হবে। এই প্রতিহত করার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা এবং রাখাইন বিদ্রোহীদের বেছে নিয়েছে। যেমনটা তালেবান বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে চীনের সিল্ক রোড উদ্যোগ আটকে দেয়া হয়েছিল। তবে এখানটায় ব্যতিক্রম। এখানে বলকান অঞ্চলে যেমনটা ‘কসোভো ‘ নামের একটা রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটিয়েছে। তেমনটা এখানেও। রাখাইন রাষ্ট্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে এখানকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
পশ্চিমা বিশ্ব এই অঞ্চলের লোকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য দূর্নীতি মুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথা সামনে নিয়ে আসবে। এর সাথে সাথে মুক্ত চিন্তা, মানবাধিকার এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসবে। একমাত্র ভারত ছাড়া রাশিয়া এবং চীন দুই দেশেই গণতন্ত্র নেই। স্থানীয় জনগণের কথা বলার অধিকার নেই বল্লেই চলে।
ভারতে ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ক্রমশই ভেঙ্গে পড়ছে। বর্তমান সরকার, ধর্মীয় দর্শন প্রাধান্য দেওয়ায় ভারতের ভবিষ্যত তমাশাচ্ছন্ন। মানবিকতা ক্রমশই ক্ষুন্ন হচ্ছে।
রাশিয়া এবং চীন রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় দূর্নীতি চরমে। যা সাধারণ জনগণ মানতে চায় না। কিন্তু নানা চাপে সাধারণ জনগণ মুখ খুলতে সাহস পায় না। একারণেই বিশ্বের বা এই অঞ্চলের জনগণ এই শক্তিকে ভালোভাবে গ্রহণ করবে না।
লেখক বিশিষ্ট সাংবাদিক



