রংপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ
রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই এলাকাবাসীর। এর মধ্যে অন্যতম- দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের দেয়া নানা সুবিধার আওতায় আনার কথা বলে
জনপ্রতি আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ, কার্ডধারী প্রতিবন্ধীর টাকা আত্মসাৎ, সরকারি গাছ কেটে অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদি।
এসব অভিযোগের তদন্তসহ ওই কাউন্সিলরের শাস্তি দাবী করে সিটি মেয়রসহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ হলেও অজ্ঞাত কারণে তা’ আলোর মুখ দেখেনি। একারণে সাংবাদিকদের সহায়তা চেয়ে রংপুর প্রেসক্লাবে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে- করোনাদুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বরাদ্দকৃত আড়াই হাজার টাকা করে দুঃস্থদের মাঝে বিতরনের জন্য তালিকা তৈরির দায়িত্ব পান ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুক্তার হোসেন। আর দায়িত্ব পেয়েই তিনি তালিকা প্রণয়নের নামে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে দাবি করে বসেন। তার সাফ কথা- তাকে টাকা দেয়া নাহলে তালিকায় নাম উঠবেনা। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে শেষ সম্বল বিক্রি করে তাকে টাকা দেন। কিন্তু তাদের ভাগ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সেই অর্থ সহায়তা জোটেনি। বরং যাদের নামে অর্থ বরাদ্দ এসেছে তাদের অনেকের অর্থই ওই কাউন্সিলর নিজেই উত্তোলন করে পকেট পুরেছেন। এমনই অভিযোগ ওই এলাকার আবুল মিয়ার ছেলে নুরুল হকের(প্রতিবন্ধি কার্ড নম্বর ১৯৬০৮৫২৪৯১১৪১৭০৩৪৫)। তিনি জানান- তার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কাউন্সিলর নিজেই উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন।
এলাকার লোকজনের অভিযোগ- এক ছেলের চাকরী দেবার কথা বলেও পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই পৌর কাউন্সিলর। একইভাবে শারিরীক প্রতিবন্ধি শাকিলা আক্তার, শরিফুল ইসলাম, নজমুল ইসলাম তুহিন, হিরা মনি, জান্নাতুল আক্তারসহ অনেকের জন্য সরকারী বরাদ্দের টাকা ওই কাউন্সিলর নিজেই উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন। এর পাশাপাশি আত্মসাৎ করা হয়েছে করোনা দুর্যোাগে বরাদ্দকৃত চালসহ অন্যান্য সামগ্রী। এনিয়ে এলাকার বিশিষ্টজনরা অনেকবার কাউন্সিলরের অপকর্মের প্রতিবাদ করলেও কোন ফল হয়নি।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা আইসোলেশনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার দপ্তর অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাউন্সিলর মুক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।



