Uncategorized

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহি মিঠুর পারিবারিক সিন্ডিকেট

রাহুল সরকার : স্বাস্থ্যখাতে দেশের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম ওরফে মহি মিঠুর নেতৃত্বে ভাতিজি ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সাবেক পিএ উম্মে সুলতানা নওশিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেকটি পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন । এই সিন্ডিকেটের মূল দায়িত্ব পালন করছেন নওশিনের স্বামী বেলাল হোসেন।
সর্বশেষ করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি বরাদ্দের কেনাকাটার কাজটি স্ত্রীর মাধ্যমে পান ঠিকাদার বেলাল। যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে দু’বছর ধরে মেডিকেলে ঠিকাদারী কাজ করছেন।
জানা যায়, সরকার করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রাথমিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে টাকা বরাদ্দ প্রদান করে তা’ দিয়ে মাস্ক, পিপিই, কিটসহ নানা উপকরণ সরবরাহ করা হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী-ঠিকাদারসহ অনেকের অভিযোগ, এই সরবরাহ কাজটি পান ঠিকাদার বেলাল হোসেন। আর কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে পেছন থেকে মূল ভুমিকা পালন করেন মহি মিঠু। তবে সামনে ছিলেন ভাতিজি নওশিন। যিনি পরিচালকের পিএ হওয়ার পরও টেণ্ডার কমিটির সদস্য ছিলেন। ঠিকাদার শাহাদাত হোসেন জানান, অন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা না করেই বেলালের প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রায় একশ’ কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। রংপুরের করোনা প্রতিরোধে নাগরিক কমিটির আহবায়ক খন্দকার ফকরুল আনাম জানান, আত্মীয়-স্বজনের নামে লাইসেন্স করে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন মহি মিঠু।
এবিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, বেলাল হোসেনকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেনেন না এবং তিনি নওশিনের স্বামী সেটাও তার অজানা।
এদিকে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফিয়ার রহমান বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে কি কি কেনা হয়েছে তা ভাল কি-না খতিয়ে দেখা উচিত। বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বেলাল আহমেদ জানান, এত বড় একটা দুর্নীতি হওয়ার পরও কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা তা সত্যিই অবাক করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button