রংপুর মহানগরের ৩৩টি ওয়ার্ডের দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি

রংপুর প্রতিনিধি : প্রবল বর্ষণে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ড ও জেলার ৮ উপজেলার অধিকাংশ এলাকা কোমর থেকে হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের প্রধান মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন ১৪ ঘন্টায় রংপুরে বেকর্ড ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তিনি জানান, শত বছরেও রংপুরে এরকম বৃষ্টি হয়নি। এতে করে নগরীর শাতাধিক পাড়া মহল্লার প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাত আরো দু-একদিন হবার সম্ভাবনা রযেছে।
টানা বৃষ্টিতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া পহল্লার কোমর থেকে হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর বেশিরভাগ বাড়ি-ঘরের ভিতর পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে মানুষজন। অবিরাম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র অবলম্বন শ্যামা সুন্দরী ও কেডি ক্যানেল উপচে পড়ায় ভেঙে পড়েছে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। নগরবাসী বলছেন ২৫-৩০ বছরেও এমন বৃষ্টিপাত দেখেননি। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাতেও নগরীতে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্ট হয়নি। পানিবন্দী মানুষজনকে উদ্ধারে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছেন।
নগরীর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নিচু এলাকাগুলো সবেচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। ৩৩ ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তা কোমর থেকে হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর শাপলা চত্বর, শালবন, মিস্ত্রিপাড়া, বোতলা,খেড়বাড়ি, বাহারকাছনা, মাষ্টারপাড়া, জুম্মাপাড়া, হাজীপাড়া, চামড়াপট্টি, করণজাই রোড, সেনপাড়া, নিউ সেনপাড়া, আদর্শপাড়া, বাবুখাঁ, কামার পাড়া , জুম্মাপাড়া, কেরানীপাড়া , আলমনগর,হনুমান তলা, মুন্সিপাড়া, মুলাটোল আমতলা, গনেশপুর, বাবুপাড়া, লালবাগ কেডিসি রোড, বাস টার্মিনাল, কামাল কাছনা, মাহিগঞ্জ, কলাবাড়ি দর্শনা, মর্ডান মোড়, মেডিকেল পাকার মাথা, জলকর, নিউ জুম্মাপাড়া, খটখটিয়াসহ শতাধিক পাড়া-মহল্লার অলিগলিসহ প্রধান সড়কে পানি উঠেছে। নিচু এলাকার বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় হাজার হাজার পরিবার বাড়ি ঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। নিজ বাড়িতে পানি উঠায় রান্না করতে না পারায় দুর্ভোগ উঠেছে চরমে। এদিকে জেলার তিস্তা, করতোয়া, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী নদীর নিম্নাঞ্চলে আবারো দেখা দিয়েছে বন্যা। ভারি বর্ষণে কৃষি জমি, ফসল আর পুকুর-বিল তলিয়েছে পানিতে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানিয়েছে, নগরীর পানি নিষ্কাশনের অন্যতম শ্যামা সুন্দরী ক্যানেল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়াতে মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তবে ক্যানেলের পানি কমে আসলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানিবন্দি এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে আসবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণে নগরীতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় মানুষজন পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। আমি সকল কাউন্সিলারকে বলেছি যারা পানি বন্দী আছে তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য। তিনি বলেন, পয়ঃ নিস্কাশনের খাল ভরাট হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।




