রংপুরে সিনিয়র সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরো: কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জনমানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রধানতম উৎস। আমাদের দৈনন্দিন পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে মসলা ফসলের গুরুত্ব অপরিসীম। সীমিত কৃষি জমি ও জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলা করে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। তিনি আরো বলেন, ৫৮.৫০ লক্ষ টন চাহিদার বীপরীতে সাড়ে পাঁচ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে ৪৪.৯৬ লক্ষ টন মসলা উৎপাদনে ১৪.৯০ টন ঘাটতি থাকে যা বিদেশ থেকে আদানী করে মিটাতে হয়। মসলা আমদানীতে আট হাজার কোটি টাকা লাগে। শুধুমাত্র পেঁয়াজ আমদানীতেই খরচ হয় ছয় হাজার কোটি টাকা।
আমদানী করতে না পারলে মুনাফা লোভীদের কারসাজিতে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং ভোক্তাগন পড়েন বিপাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের উপায় হল মসলার উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানীর হ্রাস করা একান্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে চার বছরে পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্নের জন্য রোড ম্যাপ প্রণয়ন করা হলেও আদা, রসুন, মরিচ এং কিছু অপ্রধান মসলা ফসলের যথেষ্ট পরিমানে ঘাটতি রয়েছে যা পুরণ জরুরী। মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই এর উদ্ভাবিত ৪৭ টি উচ্চ ফলনশীল জাত। এবং ১৫৬ টি আধুনিক প্রযুক্তি সমুহের বিস্তারের মাধ্যমে মসলার ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

আজ শনিবার বিকালে সগবি, বারি সেমিনার কক্ষে, বাংলাদেশে মসলা ফসল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে গবেষণা-সম্প্রসারণ-কৃষক সন্নিবদ্ধ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গাজীপুর বিএআরআই মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পরিচালক, ডিএই, রংপুর অঞ্চল কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল,গাজীপুর বিএআরআই যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ পরিচালক ড.মুহাম্মদ সামসুল আলম, গাজীপুর বিএআরআই প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ, পরিচালক, ড. মুহাম্মদ সামসুল আলম, ড. এস এস ও, মগকে, বগুড়া মোঃ আশিকুল ইসলাম, এস ও, মগকে, বগুড়া আবু হেনা ফয়সাল ফাহিম, এস এস ও, মগকে, বগুড়া ড.নুর আলম চৌধুরী, তালুকদার, পি এস ও, সগবি, বারি, রংপুর ড. মোঃ আল-আমিন হোসেন এসময় বক্তারা বলেন,মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তির বিস্তার এর মাধ্যমে মসলা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিক নির্দেশণা এবং গবেষণা-সম্প্রসারন-
কৃষক একসাথে কাজের গতিশীলতা আনা এ কর্মশালার মুল লক্ষ্য। মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই উদ্ভাবিত বিভিন্ন মসলার উন্নত জাত এবং টেকসই প্রযুক্তি বিস্তারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে চাহিদা পূরন ও আমদানী কমানো। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বানিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক করার নিমিত্তে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মসলার উন্নত জাত এবং টেকসই প্রযুক্তিসমূহ বিস্তারের উপযোগী এলাকা চিহ্নিতকরণ। লাভজনক উৎপাদনের জন্য ফলন বৃদ্ধিসহ সম্ভাব্য মসলা ও জাত নির্বাচন। এবং সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা। প্রমুখ। এছাড়াও রংপুর বিভাগের সকল কৃষি কর্মকর্তা ও সফল চাষীরা উপস্থিত ছিলেন।




