শিক্ষাশিরোনাম

মেয়েটা আর কত লড়বে একটা চাকরির জন্য?

ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স পাস করা প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা দুদিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চাকরির আশায় অনশন করছেন।
চাঁদের কণার সাথে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ৯ মাস বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে দুটি পায়ের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় তার। কিন্তু ভেঙে পড়েনি তার মনোবল। হাতের ওপর ভর দিয়েই ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে ২০১৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স শেষ করেছেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি নানান ধরনের পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এই মেধাবী প্রতিবন্ধী ছাত্রী। তিনি টিভি/রেডিওতে সংবাদপত্র পাঠ, টিভি প্রোগ্রাম গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনা, নাটক লেখা, নাটকে অভিনয়, কম্পিউটারের সকল কাজ, স্ক্রিপ্ট তৈরি, ছবি আঁকা, ভিডিও এডিটিং সব কাজেই বেশ পটু।
চাঁদের কণা জানান, তার মা হাসনা হেনা একজন শিক্ষিকা। মায়ের উপার্জনেই তাদের সংসার চলতো। ১০ বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর থেকে পেনশনের সামান্য টাকায় কোনো রকমে টিকে আছে চাঁদের পরিবার। মা যখন মারা যায় তখন তিনি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণে আর্থিক চাপে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তবে হাল ছাড়েননি, একটি বেসরকারি চ্যানেলে সামান্য বেতনে চাকরি করে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা।
পড়াশোনা শেষে একটি সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই মিলছে না সে চাকরি। চাঁদের কণা বলেন, আমি নিজেকে কখনো প্রতিবন্ধী বলে মেনে নিতে পারিনি। তাই নিজেকে এমনভাবে গড়ার চেষ্টা করেছি যেন একজন সফল মানুষ হয়ে উঠতে পারি। কিন্তু এত কিছুর পরও আমি কি সফল হতে পেরেছি? সবাই বলে শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্যই না খেয়ে, না ঘুমিয়ে জীবনের সবটুকু পরিশ্রম দিয়ে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তি মিলবে আমার এই কষ্টের জীবনের?
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের সকলের মা। দুঃখী মানুষের কষ্টে প্রধানমন্ত্রীর মন কাঁদে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দরভাবে কাটানোর জন্য একটি চাকরি চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি বেঁচে থেকে প্রমাণ করে দিতে চাই, সমাজকে দেখাতে চাই মানুষের শরীর নয়, মানুষের প্রতিভা আর মনের জোর মানুষকে বড় করতে পারে। আমি সারা বিশ্বকে জানাতে চাই- আমি পারি, আমি অপরাজিত নারী।’
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিয়াড়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের মেয়ে চাঁদের কণা (৩১)। শিশুকাল থেকে তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। তবুও বাবা-মার সচেতনতায় আর তার প্রতিবন্ধিতা জয়ের অদম্য প্রচেষ্টায় চলতে থাকে হাতে হেঁটে পড়ালেখা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button