খেলা

মেহেদী ঝড়ে কুমিল্লাকে হারাল ঢাকা

ভানুকা রাজাপক্ষের ৬৫ বলে অপরাজিত ৯৬ রানে ভর করে ঢাকা প্লাটুনকে চ্যালেঞ্জিং পুঁজিই ছুড়ে দিয়েছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। তবে ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মেহেদী হাসান ঝড় তুললেন। দুই শর ওপরে স্ট্রাইকরেটে খেললেন ২৯ বলে ৫৯ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। যে ইনিংসে ভর করে আসরে দ্বিতীয়বারের মতো কুমিল্লাকে হারাল ঢাকা।
ব্যাটিংয়ের আগে বোলিংয়েও সফল ছিলেন মেহেদী। ম্যাচের নায়ক তাই আর কেউ নন, এই ২৫ বছর বয়সীই।
সোমবার দিনের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা ৩ উইকেটে ১৬০ রানের পুঁজি গড়ে। যা ১ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় ঢাকা। এর আগে ঢাকা পর্বে দাসুন শানাকার কুমিল্লাকে ২০ রানে হারিয়েছিল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ঢাকা।
চট্টগ্রামের উইকেটে এবার রান হচ্ছে। তবে এদিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই এনামুল হক বিজয়ের (০) উইকেট হারিয়ে হোঁচট খায় ঢাকা। তবে তিনে নেমে মেহেদী ঝড় তুললেন। আগের চার ম্যাচে হাসেনি তার ব্যাট। ব্যাটিং অর্ডারে অবশ্য এর আগে মাত্র একবারই তাকে তিনে খেলানো হয়।
তবে এদিন তিন নম্বরই যে তার জন্য আদর্শ সেটি প্রমাণ করতেই যেনে জ্বলে উঠলেন মেহেদী। মাত্র ২২ বলে ফিফটি তুলে নিলেন। নবম ওভারে আল-আমিন হোসেনের শিকার হয়ে ফিরে গেলেও দল ভালো একটা ভিত্তি পেয়ে গিয়েছিল।
মাত্র ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে অবশ্য চাপেই পড়ে যায় ঢাকা। যে চাপ শেষ দিক পর্যন্ত বজায় ছিল এবং কুমিল্লাও ম্যাচে ছিল দারুণভাবে। তবে ওপেনার তামিম ইকবালের ৩৪ রানের পর মুমিনুল হকের অপরাজিত ২৮ ও শহীদ আফ্রিদির অপরাজিত ২৬ রানে জয় নিশ্চিত করে ঢাকা।
শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ৮ রান। মুজিব উর রহমান, আল-আমিন হোসেন, সুমন খানদের বোলিং কোটা তখন শেষ। পার্টটাইমার সৌম্য এলেন বোলিং করতে। মুমিনুল হক-শহীদ আফ্রিদি জুটিকে তিনি পারেননি আটকে রাখতে।
ওভারের তৃতীয় বলটা ফুলটস পেয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে আফ্রিদি স্কোর লেভেল করেন। এক বল পর উইনিং রানটা আসে তার ব্যাট থেকে। কুমিল্লার পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন মুজিব উর রহমান।
এর আগে মাত্র ২০ রানে নাটকীয়ভাবে জীবন উপহার পান কুমিল্লার শ্রীলঙ্কান ব্যাটার ভানুকা রাজাপক্ষে। পঞ্চম ওভারে ওয়াহাব রিয়াজের বলে মেহেদীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান তিনি। নতুন ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী উইকেটেও চলে আসেন।
কিন্তু টিভি আম্পায়ার রিপ্লে দেখেন, ওয়াহাবের পা পপিং ক্রিস পেরিয়েছিল। ফলে ‘নো’ বলের সিদ্ধান্ত দেন তিনি। এরপর ফের ব্যাটিংয়ে নেমে রাজাপক্ষে শুধু হতাশ করে ছেড়েছেন ঢাকার বোলারদের। ৬৫ বলে ৪ চার ও ৭ ছক্কায় ৯৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। এ ছাড়া ইয়াসির ২৭ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন ২ চারে।
ঢাকার পক্ষে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলারটির নামও মেহেদী। পরে ব্যাট হাতেও রাজাপক্ষেকে ম্লান করে ম্যাচের নায়ক হয়েছেন তিনি। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও হাতে উঠেছে তার।
৫ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে। অন্যদিকে কুমিল্লা ৫ ম্যাচে ২ জয় ও ৩ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছে পঞ্চম স্থানে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button