Uncategorized

মানিকগঞ্জে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুল শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি : গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম সেন্টু (৩৯) নামের এক শিক্ষক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ চেষ্টা, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি মামলা ও ২টি চাঁদাবাজিসহ মারামারির মামলা রয়েছে। শিক্ষক শরিফুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই গৃহবধু স্বামী সন্তান নিয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। শরিফুল ইসলাম সেন্টু বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ওই গৃহবধুর স্বামীর খোঁজে ওই বাসায় যান। এসময় তার দশ বছরের ছেলে ঘরের দরজা খুলে দেয়। গৃহবধু নামাজ পড়তে থাকায় তার ছেলেকে সিগারেট ও আইসক্রীম আনতে দোকানে পাঠায় সেন্টু। নামাজ পড়া শেষ হলে বাসায় কেউ না থাকায় সুযোগ নিয়ে ওই গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সেন্টু। এসময় তিনি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। ওই গৃহবধুর ছেলে বাসায় আসলে দরজা খুলেই দৌড়ে পালিয়ে যায় সেন্টু। বুধবার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকার সালামের বাড়ি থেকে শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলাহাজতে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম সেন্টু মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে ও দৌলতপুর পিএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষক। শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত বছর ১০ জুলাই স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয় দৌলতপুর থানায়। জানা গেছে, ওই মামলায় সেন্টু জামিনে রয়েছেন। তবে গত এক সপ্তাহ আগে ওই স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। আরেক স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ রয়েছে শরিফুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে। এছাড়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২টি মামলা ছাড়াও চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলা রয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকবর আলী খান জানান, স্বামীর বন্ধুর পরিচয়ে বাড়িতে গিয়ে গৃহবধুকে ধর্ষণ মামলায় শরিফুল ইসলাম সেন্টুকে বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সকাল ১০টার দিকে আসামী শরিফুল ইসলাম সেন্টুকে আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর নিদের্শ দেন। নির্যাতিতা ওই গৃহবধুর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button