মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সেক্রেটারির বাকবিতণ্ডা, প্রতিপক্ষ প্রার্থী প্রায় আমাকে খেয়ে ফেলেছিল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন অল্প ভোটে জয়লাভ করায় ক্ষোভ ঝাড়লেন শেখ রাসেলের জন্মদিনের আলোচনা সভায়। তার বক্তব্য চলাকালীন সময়ে পাশে বসা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুস সালামের একটি কথায় দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তুমুল ঝগড়া, তর্ক আর বাকবিতণ্ডা। দু’জনেই উত্তেজিত হয়ে একে অপরকে ধমকের সুরে কথা বলতে থাকেন। এসময় দু’জনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল। মঙ্গলবার দুপুরে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা চলছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন মাত্র ২৭ ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন। বক্তব্যের শুরুতেই তার চোখে-মুখে ছিল গভীর ছাপ।
মাইক হাতে দাঁড়িয়ে গোলাম মহীউদ্দিন নির্বাচনে অল্প ভোটে জয় পাওয়া নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ ঝাড়েন। এসময় ক্ষুব্ধ কণ্ঠে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা নাম না-জানা অখ্যাত লোকের কাছে কনটেস্ট করে আমাকে জিততে হয়েছে। যার কোনো অফিস ছিল না, যার জন্য কেউ মিছিল মিটিং করেনি, এমনকি যার জন্য বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পার্টি মাঠে নামে নাই। তাহলে কোন শক্তির বলে সে প্রায় আমাকে খেয়েই ফেলেছিল।
বিজ্ঞাপন
আমাকে খাওয়া মানে এখানে বসা সবাইকে খাওয়া, শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে খাওয়ার অপপ্রয়াস।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ছোট্ট হলেও আমাদের ভেতর মতবিরোধ আছে এবং ক্ষীণ হলেও অনৈক্য আছে। ছোট্ট বিরোধ ও ক্ষীণ অনৈক্য নিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমরা জাহিদ মালেক স্বপন, নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও মমতাজ বেগম কিংবা যারা মনোনয়ন পান না কেন তাদের কী করে জিতাবো, এটা ভাবতে হবে।
ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন আমার প্রতিপক্ষ সিংগাইর উপজেলায় ১১৭ ভোট পায়, সেখানে আমি পাই মাত্র ৪৮ ভোট। এ ছাড়া সাটুরিয়া উপজেলায় আমি দুই ভোটে হেরেছি। এসব কথা বলার পরপরই পাশের চেয়ারে বসা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সালাম কিছু একটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই রেগে উঠলেন এডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন। এ সময় তিনি এডভোকেট সালামকে বলেন- আমাকে জ্ঞান দিতে আসবেন না। সঙ্গে সঙ্গেই দুজনের মধ্যে বেঁধে যায় তুমুল ঝগড়া ও তর্কাতর্কি। দুই নেতাকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মজিদ ফটো ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল। কিছু সময় শেখ রাসেলের জন্মদিনের আলোচনা সভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।




