
পতাকা ডেস্ক : পদ্মা ও যমুনা অববাহিকার সব ক’টি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের ৪ টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জেলার হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুর ও ঘিওর নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকায় ভেঙ্গে গেছে বহু বসত ঘর আর আবাদি জমি। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে হরিরামপুরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
যমুনায় পানি বাড়ার কারণে দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা, চরকাটারী, বাঘুটিয়া ও জিয়নপুর ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ওই উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ সব ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার পরিবারের বসতভিটাতেও পানি প্রবেশ করেছে।
শনিবার সকালে শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১০ দশমিক ১২ সেন্টিমিটার ছিল, যা বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। হরিরামপুরের পদ্মা নদীতেও বিপদ সীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এলাকাবাসী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে পদ্মা নদীতে অব্যাহত পানি বাড়ায় হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ, ধূলশুড়া, হারুকান্দি, আজিমনগর, বয়ড়া, সূতালড়ি, কাঞ্চনপুর ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানি থেকে রক্ষায় কোনো কোনো এলাকায় ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। পানিতে চারদিক তলিয়ে যাওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে শতাধিক পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এদের চাল, ডালসহ শুকনো খাবার দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় এ পর্যন্ত ২৩১ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার ৭ হাজার ৯ হাজার ১৯৬ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ৭২৯ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় ১৩০ মেট্রিক টন চাল এবং ১ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশুখাদ্যের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহজাহান আলী বিশ্বাস বলেন, মানিকগঞ্জের প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল এখন পানির নিচে। পানি বাড়তে থাকলে আরও বেশ কিছু এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, হরিরামপুর উপজেলার পদ্দা নদীর তীরবর্তী ৫৯৫ মিটার, দৌলতপুর উপজেলার যমুনা তীরবর্তী ২৩৫০ মিটার, সাটুরিয়া উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ১১০০ মিটার, ঘিওরে ২০০ মিটার এবং শিবালয়ে ১৭৫০ মিটার এলাকা নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।




