মানসিক বিকাশ ঘটিয়ে সমাজের মূল স্রোতে আনতে কাজ করছে সরকার-রংপুরে সমাজকল্যাণ সচিব
আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর ব্যুরো: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, যারা টাকা পয়সার অভাবে ছেলেমেয়েদেরকে লেখাপড়া করাতে পারে না। পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারেন না। এই সমস্ত অভাবি এবং নিগৃহ পরিবার নিয়েই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীণে রংপুরে এগারোটি সরকারি শিশু পরিবারে বসবাসকারি এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য। আমরা চেষ্টা করছি বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন, ছায়া শ্রমিকের উন্নয়ন,সমাজের তৃতীয় লিঙ্গের হিজড়া সম্প্রদায় তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতে এনে জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে। সমাজের প্রত্যেকটা সেক্টরকে একটা পর্যায়ে এনে তাদের উন্নয়ন করে দেশের সামগ্রিক অবস্থার উন্নয়নে সরকার সেভাবেই এগিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, রংপুর বিভাগের আওতাধীন এগারটি শিশু পরিবার। আপনারা সবাই জানেন সমাজের দুস্থ এবং অসহায় তৃপ্তি মাতৃহীন ছেলেমেয়েরা এখানে আসে একটা নির্দিষ্ট বয়স হয় ছয় বছর বয়সে তারা এখানে এসে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে ১৮ বছর পর্যন্ত অবস্থান করে। তারা শিক্ষা নিয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, নিজস্ব জ্ঞান নিয়ে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে অবস্থান করছে।
যে কারণেই সরকার শিশু পরিবার এর মাধ্যমে ছেলে ও মেয়েদের কে লেখাপড়া করার সুযোগ দিয়েছেন। আগে তৃপ্তি ও মাতৃহীন সন্তানদের লেখাপড়া হতো। বর্তমান সরকার তৃপ্তি ও মাতৃহীন সন্তানের সাথেই দুস্থ ও অসহায় ছেলেমেয়েদের এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেখাপড়া করে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে নিজকে প্রকাশ করতে পারবে।
আজ শনিবার দুপুরে সরকারি শিশু পরিবার বালক মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার উদ্বোধন করেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম। তিনি খেলোয়ারদের শপথ বাক্য পাঠ, মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও ডিসপ্লে উপভোগ করেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সচিব বলেন,সরকার যদি সুযোগটি করে না দিতেন। তাহলে এই পরিবারে ছেলেটির লেখাপড়া ও মুখে খাবার তুলে দিতে পারতো না। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই ছেলেমেয়েদেরকে মানুসিক ও শারীরিক বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটিয়ে সমাজের মূল স্রোতে আমরা এনে দিচ্ছি। যাতে করে তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে সরকারকে সহায়তা করতে পারে। এই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সোনামণিরা তোমাদের অনুরোধ করব তোমরা খেলাধুলার পাশাপাশি লেখাপড়া ঠিক মত করবে, তাহলে তোমাদের মানসিক ভাবে সবকিছু ঠিক থাকবে। সুশিক্ষিত হয়ে এখান থেকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে। তখনি সরকারের সার্থকতা।
সরকার তোমাদের যে সুযোগ করে দিয়েছে। তোমরা এই সুযোগটা কাজে লাগাবে। আমরাও এক সময় তোমাদের মত যখন ছোট ছিলাম তখন আমরা হোস্টেলে থেকে কষ্ট করে লেখাপড়া করে এ পযন্ত এসেছি। তোমরা যারা ছোট শিশু আছো মনে করবা এটা হোস্টেল। এই হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করছো। তোমরা এখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে তখনও সরকারের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে তোমাদেরকে দিয়ে সহযোগিতা করবে।
এসময়, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভুঞা, রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্জ, পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহমুদ, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, সমাজসেবা বিভাগীয় পরিচালক (উপসচিব)আব্দুল মোতালেব সরকার,উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদসহ সমাজসেবা বিভাগ ও সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া অনুষ্ঠানে এগারোটি শিশু পরিবারের ৬শো খেলোয়ার উণোষাটটি ইভেন্টে অংশো নেয়।




