slider

ভোলায় ১১ মাসের সন্তান নিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা

তজুমদ্দিন প্রতিনিধি : বিয়ের মাধ্যমেই নর নারীর যৌথ জীবনের সমাজ স্বীকৃত যাত্রার শুরু হয়। বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থায় বিয়ের গুরুত্ব দুই এক কথা শেষ করার মতো নয়। বিয়ে নর নারীর জীবনে মানসিক ও শারীরিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বংশের ধারা অব্যাহত রাখার অপিহার্য সামাজিক হাতিয়ার। বিয়ের মাধ্যমে নর নারী সংসার গঠন করে একে অপরের দায়িত্ব গ্রাহন করে থাকে।

ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের ভূইয়াগাজী হাওলাদার বাড়ীর মৃত লাল-মিয়া হাওলাদারের ছেলে। মোঃ মমিন (জুয়েল) এর সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড চর-কালাচাঁদ গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর এর মেয়ে রুজিনার সাথে। ইসলামী শরিয়তের বিধান মোতাবেক রেজিষ্ট্রি কাবিননামা মূলে শুভ বিবাহ সম্পুন্ন হয় ০৪-০৯-২০১৯ সালে। তাদের সুখের সংসারে একটি পুত্রসন্তান আসে তার নাম শাহাদাত হোসেন,‘যাহার বয়স বর্তমান ১১ মাস চলমান। সেই সন্তান নিয়ে রুজিনা হাজির হয় আদালতে মামলা করেন স্বামীর বিরুদ্ধে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ যৌতক দাবী করার অভিযোগ এনে সর্বশেষ শারীরিক নির্যাতনের ১৫-১০-২০২৩ তারিখ রোজ রবিবার ঘটনা দেখিয়ে রুজিনা বাদী হয়ে আদালতে ৩-জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

রুজিনা জানান,‘তাকে ভিবিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছেন তার জামাই জুয়েল। কিছুদিন পরপর বাবার বাড়ীর থেকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। প্রায় একমাস পযন্ত তার বাবার বাড়িতে রয়েছেন সন্তান শাহাদাত হোসেন কে নিয়ে। তার ও সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেন না জুয়েল। বিষয়টি সমাধানের জন্য জুয়েল কে ডাকা হয় রুজিনার বাবার বাড়ীতে। জুয়েল ও তার মা ভাইয়ের বউ সহ এসে লাঠি নিয়ে তাদের উপর হামলা চালান ১৫-১০-২০২৩ তারিখ সকাল ১০-টায়। রুজিনা আহত হয়ে লালমোহন উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি থাকেন একদিন। পরে বিষয়টি নিয়ে লালমোহন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বলেন কোর্টে মামলা করার জন্য। ১৬-১০-২০২৩ তাখিল আদালতে ৩-জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন মামলা-নং ৭৩৮/২০২৩। স্বামী জুয়েল-কে প্রধান আসামী করে, নাহিদা বেগম ও শাহানুর বেগম কে আসামী করা হয় একই অভিযোগে।

মামলার সুত্র ধরে ঘটনার বিষয়টি সরেজমিনে জানতে চাইলে রুজিনার বাবার এলাকার স্থানীরা জানান, ‘জুয়েলের বাড়ী থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে রুজিনার বাবার বাড়ীতে আসতে দেখেনি। ১৫-১০-২০২৩ তারিখে মারামারির যেই অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে এমন কোন ঘটনা ওই এলাকায় হয় নাই। অনেকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করে হয়রানি অর্থহানী মানহানী করে তাদের সমাজের দূরনাম বদনাম ছড়াছেন বলে মনে করেন তারা। রুজিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ যৌতকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে শুনেন নাই। এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় শালিস বিচার করতে দেখেন নাই।

জুয়েল জানান, তার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ আনা হয়েছে সবই বানোআট মিথ্যাবিহীন। কর্মস্থান বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে ছিলেন। সর্বশেষ রুজিনা সহ পরিবারের উপর হামলার অভিযোগের ঘটনার দিন বড় ভাইয়ের বউ জুয়েলের ভাবি নাহিদা ও তার বৃদ্ধ মা শাহানুর ছিনেল না ওই খানে। জুয়েল আরো জানান তাকে না জানিয়ে রুজিনা বাবার বাড়ীতে জান। পরে জুয়েল জানতে পারেন বৃদ্ধ মাকে বাসায় রেখে তার বউ সন্তান চলে গেছেন তার শশুড় বাড়ীতে। জুয়েল রুজিনার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে রুজিনা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেন। এই মিথ্যা অভিযোগের মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে চান। মিথ্যা অভিযোগের মিথ্যা মামলার সঠিক বিচার চান।

এইদিকে জুয়েলের এলাকার স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, কখনও জুয়েল তার বউকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতে দেখেন নাই শুনেন নাই। যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সালিশ করতে দেখেন নাই। বিভিন্ন সময় জুয়েলের শশুড় শাশুড়ী শ্যালক জুয়েলের বাড়ীতে আসলে জুয়েলের বৃদ্ধ কে হুমকি দামকি দিতেন, সবাইকে জেলের ভাত খাওয়াইবেন মেয়ে দিবেন না। বর্তমান যেই অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এমন কোন ঘটনা কখনো হয়েছে বলে তাদের জানান নাই। জুয়েল তার কর্মজীবনে শহরে থাকেন বৃদ্ধ মাকে নিয়ে ও তার স্ত্রী সহ ১১ মাসের সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন জুয়েল।

এইদিকে সমাজ ব্যবস্থার সমাজবীদরা মনে করেন, বিশ্বাস ও সম্মানের মাধ্যমে একটি বিয়ে যেমন দুটি নর নারীকে দিতে পারে সুখী দাম্পত্য জীবনের স্বাদ, “আবার বিপরীত ভাবে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করা হলে দুটি জীবনকে পরিনত করে তুলতে পারে জ্বালাময়। সাধারণত এই মামলা গুলো সমাজসেবা অধিদপ্তর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বরাবর তদন্ত দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা তার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনাকে আদালতে প্রেরণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা সমাজ ব্যবস্থার সমাজবীদের।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button