Uncategorized

ভাড়াটে বিশেষজ্ঞরাই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে-আনু মুহাম্মদ

তেল-গ্যাস-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, সরকারের কিছু ভাড়াটে জ্বালানি বিশেষজ্ঞই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে সাফাই গাচ্ছে। তারাই বলছে এ ধরনের প্রকল্পের কারণে জাতি উপকৃত হবে। শনিবার মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, বিবিয়ানা থেকে যখন গ্যাস রফতানির কথা উঠেছিল তখন অনেক ভাড়াটিয়া বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, ‘গ্যাসের উপর ভাসছে দেশ’, ‘এখনই গ্যাস রফতানি না করলে দেশের উন্নয়ন হবে না’. আজ প্রমাণিত হয়েছে ওই সময় গ্যাস রফতানি হলে দেশেরই ক্ষতি হতো। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেয়া, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা, টাটাকে স্বল্প মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করে শিল্প স্থাপন করতে দেয়া, কনোক-ফিলিপ্সকে অসম চুক্তিতে ব্লক ইজারা দেয়া নিয়ে এসব বিশেষজ্ঞরা যেসব কথা বলেছিলেন তা শুনলে দেশেরই সর্বনাশ হতো। তাই মনে রাখতে হবে এসব বিশেষজ্ঞ দেশের স্বার্থ নয়, কোনো না কোনো কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষা করে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ কাণ্ডজ্ঞান দিয়ে বুঝছে, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে। কিন্তু তথাকথিত বিশেষজ্ঞ, কোম্পানির প্রতিনিধিরা বুঝছে না। কারণ ভাড়াটিয়াদের কাণ্ডজ্ঞান লোপ পায়।
সভায় অন্যান্য বক্তারা কোম্পানির প্রতিনিধিদের তথ্য উপাত্ত খণ্ডন করে বলেন, তারা যে সব প্রযুক্তির কথা বলেছেন, এসব ব্যবহারে বিপুল খরচ হবে। বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত হচ্ছে তাতে ক্ষতি হবেই, হয়তো পরিমাণ কমবে। কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস ঠেকানো যাবে না। তাই এই প্রকল্প মানা যায় না। মনে রাখা দরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নাই।
বক্তারা সুন্দরবন রক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন ও মহাপ্রাণ সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন সব স্থাপনা বন্ধের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সরকার দাবি না মেনে দমন-নিপীড়নের পথ বেছে নিলে আগামীতে অবরোধ হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিয়ে গণজাগরণের মাধ্যমে সরকারকে প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে।
সভা থেকে সুন্দরবন ধ্বংসী সকল চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ২০ আগস্ট দিনব্যাপী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button