Uncategorized

ভার্মি কম্পোস্টের গ্রাম : বদরগঞ্জের মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার ধনতলা

রাহুল সরকার : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকার ধনতলা গ্রাম। বর্তমানে গ্রামটি ভার্মি কম্পোস্ট সারের গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার প্রত্যেক বাড়িতেই তৈরি হচ্ছে কেঁচো থেকে ফসলের উপকারি ওই সার। এলাকার লোকজন মূল পেশার পাশাপাশি মাসে তিন থেকে চার ঘন্টা শ্রম দিয়ে আর খুবই সামান্য পুঁজি খাটিয়ে তারা বাড়তি আয় করছেন। এতে সংসারে ফিরছে সচ্ছলতা। ফলে প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র- যা সবার জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।
সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- ওই গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতেই রয়েছে একটি করে টিনের চালা। তার নিচে দুটি রিং স্থাপন করা হয়েছে। আর ওই রিং ঢেকে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে। এলাকার লোকজন জানান- টিনের চালার নিচের রিংগুলোতে গোবর সার দিয়ে কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওই কেঁচোগুলো গোবর খেয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছে। মাত্র দুটি রিং থেকে প্রতি মাসে প্রত্যেক পরিবার ৬০ কেজি করে সার পাচ্ছে- যার বাজার মূল্য পাঁচশ’ টাকা। এলাকার লোকজন প্রয়োজনীয় কেঁচো রেখে প্রতি মাসে দু’কেজি করে কেঁচো বিক্রিও করছেন- যার দাম প্রায় দু’হাজার টাকা। লোকজনের দাবী- একাজে তেমন কোন পরিশ্রম করতে হয়না। মাসে মাত্র তিন থেকে চার ঘন্টা শ্রম দিলেই চলে। আর পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় শুরুতেই মাত্র একবার। তাও আবার দেড় হাজার টাকার অধিক নয়। শুধুমাত্র রিং, টিন, সিমেন্ট,খুঁটি, জাল ও কেঁচোর জন্যই ওই বিনিয়োগ। তাছাড়া গোবর তো বাড়ির গরু থেকেই সংগ্রহ করা হয়।
এলাকার লোকজন জানান- ধনতলা কৃষি সেবাদান কেন্দ্র একাজে তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। এলাকার লোকজন সবাই ওই কৃষি তথ্য সেবাদান কেন্দ্রের সদস্য। প্রত্যেক সদস্য নিজ নিজ বাড়িতে সার উৎপাদন করে ওই কেন্দ্রে জমা দেন। এরপর ওই সার প্যাকেটজাত করে অন্যত্র বিক্রি করা হয়। এতে ধনতলা কৃষি তথ্য সেবাদান কেন্দ্রের পরিচিতি যেমন বাড়ছে, তেমনিভাবে সদস্যরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

কথা হয় ধনতলা কৃষি তথ্য সেবাদান কেন্দ্রের সভাপতি অহেদুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ধনতলা গ্রামের প্রায় ৩১ টি পরিবার ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনে জড়িত। তারা সবাই কৃষি তথ্য সেবাদান কেন্দ্রেরও সদস্য। তারা নিজ নিজ বাড়িতে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে কৃষি তথ্য সেবাদান কেন্দ্রে জমা দেন। এরপর তা’ প্যাকেটজাত করার পাশাপাশি বাজারজাত করা হয়। তাই সার বিক্রি নিয়ে সদস্যদের চিন্তা করতে হয়না। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সমবায়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়- উপজেলায় ছোট-বড় সব মিলে প্রায় ছয়শ’ টি ভার্মি কম্পোস্ট প্লান্ট রয়েছে। এর মধ্যে মধুপুরের ধনতলা, গোবরগাড়ি, বিষ্ণুপুরের তাঁতীপাড়া, কালুপাড়ার জামুবাড়ি এলাকার মধ্যপাড়া ও পৌরশহরের ফেসকিপাড়ার
প্লান্টগুলো অনেক বড়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, বদরগঞ্জ উপজেলায় ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধির জন্য ভার্মি কম্পোস্ট সারের বিকল্প নেই। কেঁচোর লালা লেগে থাকায় এই সার সাধারণ গোবর সারের চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর। ছাদ বাগানে ওই সার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এ কারনে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button