বৈরি আবহাওয়া আর করোনা ঝুকি মাথায় নিয়ে ফিরছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি : বৈরি আবহাওয়া আর মরনঘাতি করোনার ঝুকিসহ নানান ঝক্কি ঝামেলা মাথায় নিয়ে ফিরছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। সবাই জানে গন পরিবহন বন্ধ তারপরও হাজারো হাজারো মানুষের উপচে পরা ঢল মেনেছে দেশের ২১ জেলার মিলনস্থল পাটুরিয়া ফেরিঘাটে।
শুক্রবার সকাল থেকে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত মাইল পাড় হরে জীবনের ঝুকি কর্মস্থলে ফিরছেন হাজারো মানুষ । ঘাটে আসা অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের একই কথা “বউ, পোলাপান আর নিজের পেটের তাগিদে মহামারী করোনা মাথায় নিয়ে কর্মস্থলের দিকে যেতে হচ্ছে।
মাগুরা জেলার মোহাম্মদ পুর থেকে আসা যুবক আশরাফুল আলম জানালেন, সীমাহীন কষ্ট করে সেই কাক ডাকা ভোরে বাড়ী থেকে রওয়ানা দিয়েছি। একটি সিএনজি করে তিনিসহ আরো ৫জন এসেছেন দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। যাবেন কর্মস্থল নরসিংদীতে। কোন উপায় নেই তার গার্মেন্টেস এর ডিজিএম তার মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছেন“ শনিবারের মধ্যে অফিসের যোগদান না করলে কর্তপক্ষ তোমাকে না রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন“। বলুন এরপরও কি ঘরে বসে থাকা যায় সংসার চালাতে চাকুরী রক্ষার্থে করোনার মতো মরণঘাতি জীবানু আর প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতেই হচ্ছে।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে এক একটি ফেরি ঘাটে ভেড়ার সাথে শত শত মানুষ হুমরী খেয়ে বানের স্রোতের মতো নামছেন। তাদের চোখে মুখে একটাই শংকা শত মাইল পথ শতঝক্কি ঝামেলা আর হাজার টাকা খরচ করে আসলাম যানবাহন পাবো তো ! অন্যান্য দিনের চেয়ে শুক্রবার ছিলো গন পরিবহনের বেশ আনা গোনা।
ফেরি ঘাটে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে, ফেরিতে গাদা গাদি করে আসা কিংবা ঘাটে নামার সময় প্রতিযোগীতা করে করে যানবাহনে উঠার চিন্তায় তারা ভুলেই গেছেন মরণঘাতী ভাইরাস আর সামাজিক দুরত্বের কথা।
ঘাটে কথা হলো সানজিদা খানম নামের এক নারী কর্মজীবীর সাথে তিনিও জানালেন, ভাই করোনা টরোনার টেনশন তাদের মাথায় নাই। আগে চাকুরী বাঁচাতে হইবো।“ তার মুঠোফোনে এসএমএস এসেছে যে কোন মুল্যে শনিবার সকালের শিফটে কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে ! নইলে কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গায় লোক নিয়োগ দিবে“।
গন পরিবহন না থাকায় ঘাটে আসা কর্মস্থল মুখি কর্মজীবী মানুষেরা রীতিমতো জিম্মি হয়ে পরছে। যেখানে পাটুরিয়া থেকে নবিনগর পযন্ত ভাড়া গন পরিবহনের ভাড়া ৬০ থেকে ৯০ টাকার নিচ্ছে ২শত টাকা । প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি চেপে জন প্রতি ৫শত টাকা গুনতে হচ্ছে। মোটর সাইকেলে দুই জন এক হাজার টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে।
গন্তব্যে গাদাগাদি করে চেপে ছুটে চলার ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয় বলেও জানান ওই সকল কর্মজীবী মানুষ। এদিকে বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ফেরি সেক্টরে ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন জানালেন , ২টি রো-রো (বড় সাইজের ফেরি)সহ ৪টি ফেরি পাটুরিয়া দৌলতদিয়া রুটে চলাচল করছে। জরুরী পন্যবাহী ট্রাক আর অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হলেও। গার্মেন্টস খোলা থাকায় হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ফেরি যোগে পার হওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন বলেও জানান ফেরির ওই কর্মকর্তা।
এদিকে পাটুরিয়া ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলজার জানান, দৌলতদিয়া থেকে ফেরি পার হয়ে হাজারো মানুষ পাটুরিয়া ঘাটে ভীড় জমাচ্ছে। রীতিমতো একটি অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কর্মজীবী এসব মানুষের মুখে দিকে তাকানো যাচ্ছেনা। তার মনে করোনার বড় ভয়ের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে চাকুরী হারানোর ভয় ! এজন্য তারা বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলে চেপে যাচ্ছে। তবে এখন গন পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সকালের দিকে বৃষ্টি থাকায় লুকিয়ে লুকিয়ে কয়েকটি গনপরিবহন চললেও তাদের নজরদারীর বাড়ানোর কারনে এখন গন পরিবহন চলছেনা।




