উপমহাদেশশিরোনাম

বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে নীরব মোদির বাংলো

ভারতে ডায়নামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মুহূর্তেই ধ্বংস্তূপে পরিণত করে ফেলা হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোটিপতি নীরব মোদির বাংলোটিকে। এই মোদি অবশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনো আত্মীয় নন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মহারাষ্ট্রের আলিবাগের সমুদ্রের পাড়ে নীরব মোদির বিলাসবহুল বাংলোটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে শুক্রবার বেলা ১১.১৫টা নাগাদ এ বাড়িটি ধ্বংস করে ফেলা হয়।
কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, ৩৩,০০০ বর্গফুট ব্যাপ্তির ওই বাংলোটি নির্মাণ করা হয়েছিল সিআরজেড বিধি এবং রাজ্যের বিধি লঙ্ঘন করেই। ২৫ জানুয়ারি বুলডোজারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এ স্থাপনাটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে, বাংলোটির ফাউন্ডেশন এত শক্তিশালী ছিল যে, তা সরাতেই কর্তৃপক্ষের কয়েক মাস সময় লেগে যায়। পরে প্রক্রিয়াটি দ্রুততর করার জন্য, তারা ডিনামাইটের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিল্ডিংটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।
রায়গড় জেলার কালেক্টর বিজয় সূর্যবংশী বলেন, ডিনামাইট ব্যবহার করার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ওই বাড়ি। বিস্ফোরকগুলো বসানোর জন্য বাংলোটির পুরু কংক্রিটের থামগুলোতে গর্ত করা হয়। তারপর ডিনামাইট বিশেষজ্ঞরা সেখানে শতাধিক ডিনামাইট স্টিক স্থাপন করেন। এরপর অনেক দূর থেকেই সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় সেখানে বেশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।
২০০৯-১০ সালে বাংলোটি আংশিকভাবে গ্রাউন্ড-প্লাস-এক অর্থাৎ একতলা হিসেবেই নির্মিত হয়েছিল এবং এতে বেশ কয়েকটি শয়নকক্ষ ছাড়াও একটি ড্রাইভওয়ে, উচ্চ ধাতব বেড়া এবং একটি বিশাল নিরাপত্তা গেট ছিল। এতে একটি সুইমিং পুল, স্লাইড ও ব্যয়বহুল জিনিসপত্র রয়েছে।
মুম্বাই থেকে ৯০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে কিহিম সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত এই বাংলো। সেখানকার অন্য ৫৮টি বাড়ির সাথে এটিকেও পরিবেশগত বিধিনিষেধের আওতায় অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে সেখানে ১০টি বাংলো ভাঙা হয়েছে। নীরব মোদির এ বাংলোর পর আরো কয়েক ডজন স্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভাঙার তালিকায় রয়েছে।
রায়গড়ের সমুদ্র সৈকতে বেআইনিভাবে বানানো বাংলো, হোটেল ও রিসোর্টগুলোর মধ্যে যেগুলো জোয়ার ভাটার সীমার বিধি না মেনেই বানানো হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ২০০৯ সালে অলাভজনক সংস্থা শাম্বুরাজ যুব ক্রান্তির দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় মুম্বাই হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছিলেন।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে জড়িত নীরব মোদি, তার কাকা মেহুল চকসিসহ আরো কয়েকজন। নীরব মোদির এ স্থাপনাটি অবশ্য সরাসরি সে দুর্নীতির সাথে যুক্ত নয়। কিন্তু বিধিসম্মতভাবে তৈরি না করায় এটি এ পরিণতির শিকার হয়। নীরব প্রথমে বাংলোটি না ভাঙার জন্য হাইকোর্টের শরণাপন্নও হয়েছিলেন। কিন্তু পরে মূল্যবান সামগ্রীগুলি সরিয়ে নেয়ার পরে পর জেলা প্রশাসনের কাছে ওই বাংলো হস্তান্তর করা হয়।
নীরব মোদি তার এ সম্পত্তির দাম ১৩ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করলেও, স্থানীয় বাজারমূল্যে এর দাম একশত কোটিরর বেশি বলে জানা গেছে। সূত্র : খালিজ টাইমস ও এনডি টিভি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button