খেলা

বিশ্বকাপের চেয়েও বড় এই সাফল্য!

অপেক্ষার সময়টা ছিল সুদীর্ঘ, প্রায় ৭১ বছর। ১৯৪৭-৪৮ থেকে চলে আসছে ভারত আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট সিরিজ। প্রথম তিনটি সিরিজে অসিদের কাছে হারের পর ১৯৬৪-৬৫ সিরিজটি ড্র হয়, এরপর আবার টানা তিনটি সিরিজ হারে ভারত। ছয়টি সিরিজে হারের পর ১৯৭৯-৮০ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথম অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারায় ভারত। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারানো অধরাই থেকে যায় ভারতের। ৭১ বছরের চেষ্টায় ২০১৮-১৯ মৌসুমে এসে সেই অধরা সিরিজ জয়ের দেখা পেয়ে ভারতের কোচ রবি শাস্ত্রী তাই এই জয়কে ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ আর ১৯৮৫ সালের ওয়ার্ল্ড সিরিজ কাপ জয়ের চেয়েও বড় বলে অভিহিত করেছেন।
এই জয়ে অধিনায়ক বিরাট কোহলি হয়ে গেলেন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে অসিদের মাটিতে সিরিজজয়ী প্রথম অধিনায়ক। সিরিজ জয়ের জন্য অধিনায়ক বিরাট কোহলিসহ দলের ক্রিকেটারদের তাই প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়েছেন কোচ শাস্ত্রী। নিজের আবেগের বহিঃপ্রকাশে কোনো লুকোচুরি না করে এই জয়কে ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক অর্জন বলেছেন শাস্ত্রী। ম্যাচ-পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে পাশে বসিয়ে শাস্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যা হয়েছে, সেটা ইতিহাস আর ভবিষ্যৎ হচ্ছে রহস্য। কিন্তু আমি বর্তমানে আছি আর ৭১ বছরের চেষ্টায় অর্জিত এই জয়ের জন্য দলের অধিনায়ক আর অন্য সদস্যদের আমি স্যালুট জানাচ্ছি।’ অধিনায়ক কোহলির নেতৃত্বের প্রশংসা করে শাস্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি না টেস্ট ক্রিকেট বিরাটের মতো এত আবেগ নিয়ে আর কেউ খেলে। মাঠে এতটা দলের জন্য অন্তপ্রাণ আর কোনো অধিনায়কও আমার চোখে পড়ে না। আমার কাছে আজকের অর্জন এত বড় কারণ, ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন ফরম্যাট অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটে এসেছে এই জয়।’
ক্রিকেটের শক্তিধর এ দুই দেশ নিজেদের মধ্যে মোট ২৬টি টেস্ট সিরিজে ৯৮টি টেস্ট খেলেছে। ১৯৯৬-৯৭ থেকে দুই দেশের দুই কিংবদন্তির নামে সিরিজের নামকরণ করা হয় ‘বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজ’। ভারতের নয়টি সিরিজ জয়ের বিপরীতে ১২টি সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ড্র হয়েছে মোট পাঁচটি সিরিজ। অস্ট্রেলিয়ার ৪২টি জয়ের বিপরীতে ২৮ জয়ের দেখা পেয়েছে ভারত। ২৭টি টেস্ট ড্র হয়েছে। আর একটি ম্যাচ হয়েছে টাই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button