১৯৫৩ সালে এক শিকারী দাবি করেছিলেন নোয়াখালিতে তিনি নেকড়ে শিকার করেছেন। তার কথা অনেকে বিশ্বাস করেননি। সুন্দরবনে নেকড়ে বিলুপ্ত প্রাণী বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত ১১টি স্তন্যপায়ীর অন্যতম নেকড়ে। তবে সব পরিসংখ্যান, তথ্য গোলমাল করে দিয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম তালতলিতে পাওয়া একটি প্রাণীর মৃতদেহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নেকড়েরই দেহ।
বাংলাদেশের সুন্দরবনের বরগুনা জেলার তালতলির বাসিন্দারা ফাঁদ পেতে ধরেছিল একটি প্রাণীকে। সে বারবার হানা দিচ্ছিল গ্রামে, শিকার করে নিয়ে যাচ্ছিল গবাদি পশু ও মুরগি। ধরার পর তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলে গ্রামবাসী। সেই ছবি দেখে সন্দেহ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মুনতাসির আকাশের। তিনি পৌঁছে যান সেই গ্রামে। কবর থেকে তোলা হয় কুকুরের মতো দেখতে প্রাণীটির মৃতদেহ।
মুনতাসির আকাশের বদ্ধমূল ধারণা, এটি নেকড়ে। কিন্তু নেকড়ে তো বাংলাদেশে বিলুপ্ত। ২০১৭ সালে ভারতের সুন্দরবনেও একটি নেকড়ের দেখা মিলেছিল। কিন্তু এতদূর পাড়ি দিয়ে সে এ অঞ্চলে আসবে, তা কার্যত অসম্ভব।
ছবি দেখার পর, প্রাণীটি যে নেকড়ে তা নিশ্চিত করেন ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটের প্রাণিবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান ড. যাদভেন্দ্রাদেব ভি ঝালা, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ গবেষণা ইউনিটের প্রধান জীববিজ্ঞানী ড. জন এফ ক্যামলার এবং উইলিয়াম ডাকওয়ার্থও।
তবে জিন পরীক্ষার পর আর সন্দেহ থাকল না এটি ভারতীয় নেকড়ে (Canis lupus pallipes)।
কেউ কেউ বলছেন, ফণীর দাপটে কোনো একভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবনে চলে এসেছে নেকড়ে।
তবে মুনতাসির আকাশ বলছেন, সুন্দরবনের অন্যত্র নেকড়ের বসতি আছে। কথিত আছে বাঘের ভয়ে নাকি সুন্দরবনের শিয়ালরা ডাকে না।
এ গবেষক বলছেন, ওই না ডাকা শিয়াল খুব সম্ভবত নেকড়ে। হয়তো বেঁচে থাকার জন্যই তারা স্বভাবের পরিবর্তন করেছে। সেক্ষেত্রে, এরাই হবে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ম্যানগ্রোভবাসী নেকড়ে। ম্যানগ্রোভের অরণ্য নেকড়েদের বসবাসের উপযুক্ত নয় একেবারেই।
সূত্র: বঙ্গদর্শন ডটকম।



