বিবিসির সাংবাদিকের করোনা আক্রান্তের অভিজ্ঞতা

লুসি অ্যাডামস
কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার ৭ মাস পরে আমাকে এখন প্রায় স্বাভাবিক দেখায়। এখনো চোখের নিচে কিছু ভাজ রয়ে গেছে তবে এটি বিশেষ কিছু নয়। আমি দীর্ঘ সময় সাংবাদিক হিসেবে যত রিপোর্ট ও ডকুমেন্টরি তৈরি করেছি তাতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা নিয়ে বেঁচে আছেন এমন মানুষের জীবনের কথাও ছিল। তাদের কষ্টটাকে ক্যামেরায় তুলে ধরে কীভাবে দর্শকদের মধ্য থেকে সহানুভুতি জাগিয়ে তোলা যায় সেটি একটি চ্যালেঞ্জ। এ জন্য তাদের যন্ত্রণার গল্প তাদের নিজেদের শব্দেই বর্ননা করতে হতো। এতে করে তাদের যন্ত্রণাটা অনেক বেশি বাস্তব করে তোলা সম্ভব। আমি যদিও আরেকজনের গল্প বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তবে এখন আমাকে আমার নিজের গল্প বলতে হচ্ছে।
দেশের হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে গত মার্চ মাসে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দেয়। আমার বয়সে ৪০ ছাড়িয়েছে এবং বেশ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী আমি। তারপরেও কোভিড আমাকে বেশ কঠিনভাবেই আক্রমণ করে। আমার শরীর কুঁকড়ে যাচ্ছিল, আমার গলা জ্বলে যেত আর মাথা সবসময় ঝিম দিয়ে থাকতো। তারপরেও আমি আমার শিশুদের দেখাতাম চিতাবাঘ দেখতে কেমন হয়। আমি তখনো আমার শিশুদের নিয়ে হাটতে বের হয়েছি।
৭ দিনের মধ্যেই আমার তাপমাত্রা বেড়ে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়। টানা ১০ দিন এ অবস্থা ছিল। আমার মেরুদণ্ডে ছিল অসহনীয় ব্যাথা। একইসঙ্গে আমার ৭ বছর বয়সী মেয়ের গায়েও জ্বর আসে। আর ছোট মেয়েরও জ্বর আসে যা একদিন পরেই নেমে যায়। তবে আমার স্বামীর কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।
আমি তখন ঘুমাতে পারতাম না। আমার নাক বন্ধ থাকত এবং পেটে প্রচুর ব্যাথা করতো। মাঝেমধ্যেই প্রচুর ঘাম দিত শরীর। আমি দাঁড়াতে পারতাম না আবার শুয়ে থাকাও ছিল বেশ কষ্টকর। আমি চাইলেও পরীক্ষা করাতে পারিনি তখন। কারণ, হাসপাতালগুলোর বাইরে তখনো কোনো টেস্ট করার সুযোগ ছিল না। আমি ও আমার মেয়ে দুজনই ঘ্রাণ ও স্বাদের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি এবং আমাদের সাড়া শরীরে র্যাশ উঠতে শুরু করে।
এরপরই আসে শ্বাস নেয়ার সমস্যা। সিঁড়ি দিয়ে কোথাও উঠলেই হাপিয়ে উঠতাম। শুয়ে থাকা অবস্থায়ও শ্বাস টেনে নিতে পারিনি অনেকদিন। আমি ৬ সপ্তাহ ধরে অসুস্থ থাকার পরে এ নিয়ে লজ্জ্বা পেতে শুরু করি। এতোদিন কাজ না করে থাকা আমার জন্য ছিল হতাশার। আমাকে এনএইচএসকর্মীরা জানিয়েছিল যে, এটি দুই সপ্তাহ থাকতে পারে। তবে আমি দুই মাস পরেও জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম এবং কোভিডের অন্যান্য উপসর্গও দেখা যাচ্ছিল সমানভাবেই।
আমার ম্যালেরিয়া ছিল কিন্তু কখনো আমাকে এত যন্ত্রণা সৈহ্য করতে হয়নি। এতদিন ধরেও সুস্থ না হওয়ার যে মানসিক যন্ত্রণা তা অসহনীয়। অসুস্থ হওয়ার পূর্বে আমি প্রতিদিন সাইকেল চালাতাম, সপ্তাহে দুদিন সাঁতরাতাম এবং পাহাড়ে হাটতাম। এখন পার্কে একটা কচ্ছপও আমার আগে হেটে চলে যায়।



