
উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে বিচারের সমালোচনা করে কবি ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘যখন রাষ্ট্র গঠন করার সময়, তখন মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) গিয়ে মাজার ভাঙে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। কোনো কিছু গুছিয়ে করতে পারে না। বিপ্লব কোনো ডিনার পার্টি নয়। এখন উল্লাসের সময় নেই।’
গতকাল ঢাকা কলেজ মিলনায়তনে ‘অভ্যুত্থান-পরবর্তী কেমন বাংলাদেশ চাই?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ফরহাদ মজহার এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা কলেজ। অন্যদের মধ্যে আন্দোলনে নিহত সাব্বির হোসেনের বাবা মহিউদ্দীন, কবি আবদুল হাই শিকদার, ইসলামিক স্কলার মূসা আল হাফিজ, মানবাধিকারকর্মী সাইয়েদ আবদুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন। মুঈনুল ইসলাম ও নাহিয়ান রেহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
আলোচনা সভায় ফরহাদ মজহার প্রশ্ন রাখেন, গণ-অভ্যুত্থানের বিজয় কি হয়েছে, না হয়নি? অনেকে তখন না আবার অনেকে হ্যাঁ বলে জবাব দেন। পরে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘না, আমরা জয়ী হইনি। আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থ হওয়ার কারণটা কী? কারণ আমরা এখনো মব। কোনো একটা ঘটনা ঘটলে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি, আবেগের দ্বারা। আবেগের দ্বারা কখনো কোনো বড় কাজ করা যায় না।’
মাজার ভাঙার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মাজার সম্পর্কে আপনি সমালোচনা করতে পারেন, আপনি ফতোয়া দিতে পারেন, নিন্দা করতে পারেন। কিন্তু আপনাকে তো ফতোয়া বাস্তবায়িত করার অধিকার ইসলাম দেয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের অর্থ হলো পুরনো ব্যবস্থাকে উৎখাত করে নতুন ব্যবস্থার পত্তন। রাষ্ট্র, রাজনীতি, আইন না বোঝার কারণে শত্রুপক্ষ সংবিধান ও আইনের নামে প্রতিবিপ্লব ঘটিয়েছে। বর্তমান সংবিধানে ফ্যাসিস্ট শক্তি নিজেকে হাজির রেখেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সে সংবিধানের ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন এই সংবিধান রক্ষা করার।’
ফরহাদ মজহার মনে করেন বর্তমান সরকারের প্রথম কাজ জনগণের অভিপ্রায় শোনা। তারা কি শুনছে, তাহলে গণতন্ত্র কোথায়—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কথা শোনা তো দূরের কথা, তারা তাদের পছন্দের লোক বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দিচ্ছে। আপত্তি নেই, ভালো লোক থাকতে পারে, খারাপ লোক থাকতে পারে। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে, কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই লোকগুলো বসছে, সে ব্যাপারে স্বচ্ছতা নেই।’
আমান আযমীর জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের দাবির সমালোচনা করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘জাতীয় সংগীত এখন সমস্যা নয়। রবীন্দ্রনাথ একটি ইতিহাসের অংশ। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ঐতিহ্যের অংশ। রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেয়া যাবে না। ঐতিহ্য ভুলে গেলে সমাজ ফ্যাসিস্ট হয়ে থাকে।’




