
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব পার থেকে পশ্চিম পারে বিদ্যালয় স্থানান্তর করা নিয়ে দুইদিন যাবৎ বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা উচ্চবিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলছে। গত দুই দিন ধরে পাঠদান বন্ধ করে থাকায় প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থী অভিভাবক।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল দু পাড়ের গ্রাম বাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে। এ সময়, সহকারী কমিশনার ভূমি তানভীর আহম্মেদ, উপজেলা প্রকৌশলী ইমরুল হাসান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন, অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১২ টার দিকে নদীর পশ্চিম পাড়ে ছনকা বাজারের পূর্ব দক্ষিন পাশে নতুন স্কুলের জায়গায় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। স্থানীয়দের দাবী, স্কুলটি তারা পশ্চিম পাড়ের স্থাপন করবেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী ভাঙ্গনের কারনে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে স্থানান্তরের অনুমতি পত্র পেয়ে নতুন জায়গায় গত ২৭ এপ্রিল রাতারাতি টিনের ঘর উত্তোলন করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শ্রেনী ভাগ করেছেন। নদীর পুর্ব পারের স্কুলটি দুইদিন যাবৎ তালা বদ্ধ। তালাবদ্ধ স্কুলে পুর্ব পাড়ের শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছে। পশ্চিম পাড়ের মতবিনিময় শেষ করে বেলা ৩ টার দিকে পশ্চিম পাড়ে স্কুলে এসে শিক্ষার্থী অভিভাবকের মত বিনিময় করে। উভয় পারের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এলাকাবাসী স্কুলের দাবি জানান। তারা যে কোন মূল্যে স্কুল চান।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ শাহজাহান ও প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের সঙ্গে এলাকার মানুষের কথা-কাটাকাটির কারণে বিদ্যালয়টি ধলেশ্বরী নদীর পূর্ব পার থেকে পশ্চিম পারে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নদীর পশ্চিম পারে জমি কিনে নতুন একাডেমিক ভবন তৈরির চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। গত শুক্রবার রাতারাতি একটি টিনশেড ঘর তৈরি করা হয়। বিদ্যালয়টি যাতে স্থানান্তর না হয়, সে জন্য মানিকগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকির কারনে বিদ্যালয় স্থানান্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ১১/০৩/২৫ বিদ্যালয় স্থানান্তরের অনুমতি দেন। নিয়ম মেনে বিদ্যালয়ের ভবন স্থানান্তরের কাজ করা হয়েছে।
দু পক্ষের জটিলতা নিরসনের জন্য আজ মত বিনিময় সভা, সরজমিন তদন্ত করেন ইউএনও ইকবাল হোসেন।
ইউএনও ইকবাল হোসেন জানান, দু’পক্ষের ৭ জন করে করে প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কোন সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস চলবে না বলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জানান। খুব তাড়াতাড়ি জটিলতার অবসান হবে বলেও জানান। নদীর পশ্চিম পাড়ের বাসিন্দাদের কাছ থেকে চলে আসার পর স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত স্থানীয় কিছু লোকের উপর গায়ে হাত তুলে ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় পুর্ব পাড়ের বাসিন্দা বলে। এ সময় স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উত্তেজিত জনতাকে থামিয়ে কেড়ে নেওয়া ব্যক্তিদের মোবাইল উদ্ধার করে ফেরত দেন। তিনি বলেন এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৃতীয় কোন পক্ষ এটা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম জানান, আমরা চলে আসার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনার অভিযোগ পেলে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




