বাবার কবরের পাশে শায়িত হলেন রবিউল
নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের গুলি ও গ্রেনেড হামলায় নিহত পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম নিজ এলাকায় তৃতীয় জানাযা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে রাত সোয়া আটটার দিকে তাকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে লাশবাহী গাড়িতে বাড়ি আনা হয়। তা দেখেই প্রবীণ মা, স্ত্রী, ছেলে, দাদি ও ভাইসহ স্বজনের বুক ফাটা কান্নায় সেখানে সৃষ্টি হয় হৃদয় বিদারক দৃশ্য।
থেমে থেমে ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে তাকে শেষবার এক নজর দেখতে আসেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান তারা।
রবিউলের ছোট ভাই শামসুদ্দিন সামস জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর দুইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিনের লাশ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। সেখানে গোসল করিয়ে তাদের পড়ানো হয় কাফনের কাপড়।
বাদ আসর বিকাল সাড়ে পাঁচটায় তাদের এক সঙ্গে প্রথম জানাযা রাজারবাগ পুলিশ লাইন জামে মসজিদে ও দ্বিতীয় জানাযা শহীদ এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তন ময়দানে সম্পন্ন হয়।
রাত পৌনে ১১টার দিকে কাটিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে তার তৃতীয় জানাযা দেয়া হয়। এ সময় পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। এরপর ১১টার দিকে কাটিগ্রাম কবরস্থানে তার বাবার পাশে দাফন করা হয়েছে।
তৃতীয় জানাযায় মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দিন, মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নানা শ্রেণি পেশার মানুষ শরিক হন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস।




