sliderস্থানিয়

ফিরে এসেছে শিবগঞ্জের মনাকষা নীল কুঠি ঘাটের ঐতিহ্য

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি: ফিরে এসেছে শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের নীলকুঠি/পুঁঠির ঘাটের ঐতিহ্য। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই আনাগোনা চলছে শত শত মানুষের। সকাল ছয়টা থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন যানবাহন যোগে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে তরুনের দল শুধু স্থানটি দর্শণের জন্য। সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত এ ঘাটে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের ও পেশার প্রায় ৫০০/৬০০ মানুষ শুধু গোসল করতে। স্থানটিও হয়েছে সাঁতার কাটার মত।

গতকাল দুপুরে সরজমিনে গিয়ে গোসল করতে আসা তরুন ও যুবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা শুুধু লোকমুখে শুনেছে নীল কুটি বা পুঁঠির ঘাটের কথা। আজ নিজে ঘাটে এসে নদী সাঁতারিয়ে গোসল করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছে। বিনোদপুর ইউনিয়নের রসুন চক গ্রামের আব্দুল জাব্বার জানান, তারা এ ঘাটের কথা শুনে একটি ভ্যানে নয় জন যুবক সাঁতার কেটে গোসল করার জন্য এসেছি। খুব ভাল লাগছে। দূর্লভপুর ইউনিয়ন থেকে আসা পফুল্ল কুমার রবিদাস জানান, নীল কুঠি/পুঁঠির ঘাটের কথা বই পুস্তকে পড়েছি। কিন্তু বাস্তবে দেখেনি। আজ এসে নদীতে সাঁতার কেটে গোসল করলাম,নীলকুঠির কথা মানুষের মুখে শুনলাম। খুব ভাল লাগল। একই কথা জানান, শ্যামপুর, দূর্লভপুর, বিনোদপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভুটভুটি, অটো, রিক্স্রা, মোটরসাইকেল,সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন যোগে গোসল করতে আসা শত শত বিভিন্ন বয়সের ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। এখানে সবচেয়ে আকষর্ণীয় দৃশ্য হলো নীলকুঠি/ পুঁৃিঠর ঘাটে নির্মিত ব্রীজের উপর থেকে সরাসরি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুন ও যুবকরা। তারা জানান, এ ভাবে ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়ে গোসল করতে একদিকে যেমন খুব মজা হচ্ছে,অন্যদিকে তেমনি শারীরিকভাবে ব্যায়াম করা হচ্ছে। ব্রীজের এক পাশে চা ও ছোলার দোকানদার পাতু আলি জানান, এখানে সকাল ১১টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত তরুন ও যুবকরা ও বিকাল তিনটার পরে তরুনী ও যুবতীরা গোসল করে আসছে। যা এর আগে এ ধরনের সমাগম ছিল না। তিনি আরো জানান, বিকাল পাঁচটার থেকে রাত ১০/১১পর্যন্ত শতাধিক তরুন ও যুবকরা এখানে ছবি তুলতে ও আড্ডা মারতে এসে আনন্দ উপভোগ করছে। শুধু পাতু আলিই নয়, দূর থেকে আসা আরো কয়েকজন ভ্যানে করে ভ্রাম্যমান দোকান দিয়ে চা, সিগারেট, ছোলা সহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্যের বিক্রী করছে। তারা জানান অল্প পুঁজিতে প্রতিদিন ৫০০/৬০০ টাকা উপার্জন করতে পারছি।

এ নীল কুঠি বা পুঁঠির ঘাটের অবস্থান হলো জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনয়িনের চৌকাখড়িয়াল ও পারচৌকা গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর শাখা চকের নদীতে। নীল কুঠি বা পুঁঠির ঘাটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হলো ১৮ শতকের শেষে ও ১৯ শতকের প্রথম দিকে মনাকষা ইউনিয়নের এ স্থানে প্রায় ২০ একর জমি জমিদারদের নিকট হতে ইংরেজ সরকার জোর করে কেড়ে নিয়ে ইট ও চুন সুরকী দিয়ে উচুঁ দেয়াল ও পুরু ছাদ বিশিষ্ট ভবন তৈরী করে এ এলকার কৃষকদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করেছিল। নীল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য বড় আকারের ভাঁড়ার ঘর,নীল সংরক্ষণের জন্য আড়তঘর ও বিশ্রামাগার ও নদী পথে পরিবহনের জন্য বিশেষ ঘাট যা বর্তমানে নীলকুঠির বা পুঁঠির ঘান নামে পরিচিত। এখানকার উৎপাদিত নীল পদ্মা নদীপথে ইংরেজরা কলিকাতা সহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করতো। কথিত আছে যে সে সময় ইংরেজার ইচ্ছা হলে কুষকের জমি জোর করে দখল করে নীল চাষ করাতো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button