
ভারতের বড় শহরগুলোতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে সড়ক নির্মিত হচ্ছে। দেশটির প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যার সমাধানে ২০০৬ সালে একটি উদ্ভাবনী চিন্তার কথা জানিয়েছিলেন তামিলনাড়ু রাজ্যের থিয়াগরাজর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন আর বাসুদেবন। তিনি প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের ধারণা দেন।
প্লাস্টিক ও বিটুমিন উভয়ই পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য। গলিত পিচের সঙ্গে প্লাস্টিক যোগ করলে মিশ্রণটি দারুণ মজবুত হয়। এতে সড়ক হয় দীর্ঘস্থায়ী ও অধিক ভারবহনে সক্ষম। বাসুদেবন উদ্ভাবিত পদ্ধতি ১৩ বছর পর ব্যবহার করছে ভারতের বড় শহরগুলো।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্লাস্টিক সড়ক নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড সিপিসিবির গবেষণায় বলা হয়, চার বছর ভারী যান ব্যবহারের পরও এ ধরনের সড়কে ভাঙনের সমস্যা দেখা যায় না।
বাসুদেবনের মতে, এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৯ টন বিটুমিনের সঙ্গে এক টন প্লাস্টিক বর্জ্য মেশানো হয়। এর ফলে এক টন বিটুমিনের খরচ ৫০ হাজার রুপি বেঁচে যায়। আর বর্জ্যমিশ্রিত পিচ পানি শুষে নিতে পারে, ফলে পানির চুইয়ে পড়াও রোধ হয়। এতে সড়ক হয় আরো বেশি টেকসই। এ কারণে পদ্ধতিটি ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি সড়কের উন্নত মানের নিশ্চয়তা দেয়। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে ভালোভাবে পুণরায় ব্যবহারও করা যায়।
ভারতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টনের মতো প্লাস্টিক উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার টন পুনঃব্যবহার করা হয়। বাকিগুলো হয় পুড়িয়ে ফেলা হয়, নয়তো ভাগাড়ে ফেলা হয়। এমন বাস্তবতায় বাসুদেবনের পদ্ধতি প্লাস্টিক সংকট মোকাবিলার নতুন পথ দেখাচ্ছে।
২০১৫ সালেই সড়ক নির্মাণে প্লাস্টিক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে ভারত সরকার। ভারতীয় সড়ক কংগ্রেস আইআরসির মতে, নতুন সড়ক নির্মাণে কমপক্ষে ছয় থেকে আট শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা উচিত। এর মাধ্যমে প্লাস্টিককে পুনঃব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি হবে। এরই মধ্যে সড়ক নির্মাণে বিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক বর্জে্যর ব্যবহার শুরু করেছে দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, পুনের মতো বড় শহরগুলো।



