শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

প্লাস্টিকই মানুষ ও পরিবেশের বড় শত্রু

শুধু মাত্র প্লাস্টিকের সহজ ব্যবহারের সুবিধার কথা ভেবে আমরা নিজেদের ভবিষ্যতকে ভয়াবহ হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছি। প্লাস্টিকের দূষণ চক্রে আটকে পরেছে আমাদের জীবন ও পরিবেশ। একদিকে যেমন নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছি অন্যদিকে পরিবেশও রয়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে।
বিভিন্ন রকম প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কমে যায় প্রজনন ক্ষমতা। ধ্বংস করে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধাসহ ক্যানসারের কারণ হিসেবেও এই প্লাস্টিকের অবদান রয়েছে। অনেক প্লাস্টিকের বোতলে থাকে বিসফেনল। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শরীরে এই যৌগ ঢুকলে শিশুর ওজন হ্রাসের আশঙ্কা থাকে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ রোধ করে।
প্লাস্টিকে অনেক ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকে যার ফলে লিভার, কিপনী এবং পাকস্থলির ক্ষতি হতে পারে। শিশুদের হাঁপানি হতে পারে, কমতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মহিলাদের বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে। এছাড়াও নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি হতে পারে এসব প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে।
অন্যদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে এই প্লাস্টিক দূষণ। প্লাস্টিক বর্জের কারণে হুমকির মধ্যে রয়েছে পৃথিবী। সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক প্রতিবছর সাগরে পতিত হওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে সাগরে মাছের তুলনায় প্লাস্টিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। পৃথিবীব্যাপী প্রতি মিনিটে ১০ লাখ প্লাস্টিক বোতল সাগরে পতিত হয়, যা জলজ প্রাণীর জন্য হুমকি। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের অধিকাংশ মাটির সঙ্গে মিশে যায় না এবং কিছু কিছু মিশলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
২০১৮ সালে বিশ্বের সর্বাধিক ২০টি প্লাস্টিক দূষণকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। ঢাকা শহরে প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ পলিব্যাগ পরিত্যক্ত হচ্ছে আর তা জলাধার, নদী ও মহাসাগরে গিয়ে জমা হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের ওপর ফেলছে মারাত্মক প্রভাব। শহরের পয়োঃনিষ্কাশন-ব্যবস্থায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।
‘ওয়েইস্ট কনসার্নের’ প্রতিবেদন বলছে বাংলাদেশে ৫ লাখ টনেরও বেশি প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার হয়। এর মধ্যে রিসাইকেল হয় মাত্র ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
সারা বিশ্বে প্লাস্টিক ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় প্রথমে রয়েছে চীন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়া। বিশ্ব জুড়েই এখন প্লাস্টিক উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই প্লাস্টিক ব্যবহার থেকে সড়ে আসতে শুরু করেছেন বিশ্বের সচেতন দেশগুলো। ২০২১ সাল থেকে প্লস্টিকের কাপ, প্লেট, কাপ, চামচ ইত্যাদির ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন।
মানবজাতীর সুস্থ বিকাশের জন্যই এখন প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button