
পতাকা ডেস্ক: ভোটার তথ্য সুরক্ষা ও বিদেশে প্রচারে নিয়ন্ত্রণসহ প্রবাসীদের অনলাইন ভোটিংয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসরের পরামর্শ দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। আজ ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে প্রবাসীদের ভোটিং সিস্টেমের উপর এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সেমিনারে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শ্যাডো এফেয়ার্স বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান বলেন, “প্রবাসীদের অধিকাংশের কাছে বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, অথচ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নীতিতে শুধু এনআইডিই নিবন্ধনের জন্য গ্রহণযোগ্য। বাস্তবতায়, অনেক প্রবাসী দূতাবাস থেকেও এনআইডি সংগ্রহ করতে পারবেন না। তাই পাসপোর্টকেও নিবন্ধনের জন্য অনুমোদন দেওয়া জরুরি।”
পোস্টাল ভোটিং নিয়ে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেখানে গোষ্ঠীগত প্রভাব, নিয়োগকর্তার চাপ এবং তৃতীয় পক্ষের সহায়তা গ্রহণের সুযোগে অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। অধিকন্তু, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনেকাংশেই গণতান্ত্রিক নয়। তাই এই অঞ্চলের উন্নয়ন সহযোগী ও কূটনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, যাঁরা প্রযুক্তিগত বা শিক্ষাগত কারণে পিছিয়ে আছেন, তাঁদের সহায়তায় দূতাবাসে একটি নিবন্ধন সহায়তা ডেস্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি।”
অনলাইন ভোটিং সম্পর্কে তিনি বলেন, “নীতিগতভাবে এটি সমর্থনযোগ্য, তবে একে প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করতে হবে। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে কত, তা প্রকাশ্যে জানানো উচিত, যেন জনগণ বুঝতে পারে এটি জনস্বার্থে কতটা কার্যকর। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে, ভবিষ্যতের কোনো সরকার যেন এই প্রযুক্তি অপব্যবহার করতে না পারে, সেই নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি বলেন, “জাতীয় পরিচয়পত্রের সুরক্ষা এখনো রাষ্ট্র নিশ্চিতে পুরোপুরি সক্ষম নয়, তাই একটি নিরাপদ অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সেই বিশ্বাসযোগ্যতা আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” প্রক্সি ভোটিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশে এখনই প্রয়োগ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধুমাত্র ৪টি দেশ এ পদ্ধতি সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত করেছে, এবং ২১টি দেশ এটি কঠোর শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার করে। উল্লেখযোগ্য যে, এসব দেশ উন্নত এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক চর্চা সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর ব্যাপক অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে দুর্বলতা খুঁজে নিয়ে মানুষ ফাঁকফোকর ব্যবহার করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন:
In-person voting প্রবাসীদের জন্য কেন বিবেচনা করা হয়নি, বিশেষত পশ্চিমা দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আসা উচিত। পাবলিক মানি ব্যয় হচ্ছে – এই প্রক্রিয়াগুলোর ব্যয়সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ প্রকাশ করে জনস্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভবিষ্যৎ সরকারের দ্বারা ভোটার ডেটা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে একটি সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করেন তিনি। দেশের বাইরে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণায় যেন বিদেশী বিনিয়োগকারী বা বৈদেশিক সম্পর্ক নষ্ট না হয় তার জন্য দেশের বাইরে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন না রাখার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি প্রবাসে অনলাইন ক্যাম্পেইনের প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অনলাইন মনিটরিংয়ের জন্য আহ্ববান করেন যেন কেউ অপপ্রচার বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটারদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে কিংবা যেকোন সহিংসতার সৃষ্টি করতে না পারে ।
সবশেষে ব্যারিস্টার খান বলেন, “যেকোনো নতুন ভোটিং ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রথমে সীমিত পরিসরে ট্রায়াল বা পাইলট প্রকল্প করা উচিত এবং তার আগে সম্ভাব্য ব্যয়, ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণ প্রকাশ করা উচিত।”
নির্বাচন কমিশন এবি পার্টির উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন।




