প্রবল স্রোত ও ফেরি স্বল্পতার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি : পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে প্রবল স্রোত ও ফেরি স্বল্পতার কারণে ফেরি যোগে যানবাহন পরাপারে মারাত্বক অচলাবস্থার দেখা দিয়েছে। গড়ে প্রতিটি পন্যবাগী ট্রাককে ফেরি পারের জন্য তিনদিন আটকে থাকতে হচ্ছে ঘাট এলাকা ও বিভিন্ন স্থানে। আটকে পরা পন্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারীরা জানালেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে তাদের পারাপার অনিশ্চিত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা সিমান্তে প্রবেশ করে। দুদিন আটে ছিলো পাটুরিয়া ঘাটের ৬ কিলো মিটার দুরে উথলী সংযোগ রাস্তায়। এরপর পাটুরিয়া ঘাটে প্রবেশ করলেও এখনো তারা ফেরিতে উঠতে পারেনি। কথা হয় টুরিয়া টারমিনালে আটকে থাকা রাজবাড়ী চিনি বোঝাই ট্রাকের চালক মিঠুর সাথে। তিনি জানালেন, সরকারে নির্ধারিত মূল্যে টিকেট পেলেও ফেরি পারের দেখা মিলছেনা। ফেরি সেক্টরের কর্মকর্তারা জানালেন,পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারনে ফেরি গুলো তাদের নিজস্ব গতিতে চলতে পারছেনা। নির্ধারিত সময়ের চাইতে তিনগুন সময় লাগছে প্রতিটি ফেরিকে।
স্রোতের কারনে এই ফেরি সেক্টরের অতিশয় পুরোনো ফেরি গুলো ঘনঘন মেরামতে যাচ্ছে। এই রুটে চলাচলকারী ১৮টি ফেরি মধ্যে বর্তমানে চলছে ১৩টি ফেরি। পাটুরিয়া ৫নং ফেরিঘাটের ভাসমান ফেরি মেরামত কারখানায় মেরামতে আছে দুটি রো-রো(বড়) ফেরিসহ তিনটি। এছাড়া নারায়নগঞ্জ ডর্কইয়ার্ডে মেরামতে আছেআরো দুটি ফেরি।
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান জানালেন, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে মূল চ্যানেল থেকে তিন-চার কিলোমিটার উজান দিয়ে ঘুরে পার হতে হচ্ছে ফেরিগুলোকে। এ কারণে সময় বেশি লাগায় ফেরির ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। এ ছাড়া এদিকে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি রুটে স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ব্যাহত থাকায় ওই রুটে অতিরিক্ত চাপ এ নৌ-রুটে পরেছে। অন্যান্য দিনের মতো রোববার বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহনের চাপ আরো বাড়তে থাকে। ঘাট এলাকা থেকে নবগ্রাম পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এবং পাটুরিয়া সংযোগ মোড় থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের বিস্তৃতি হয়ে পরে।

এদিকে পাটুরিয়া ফেীর সেক্টরের ব্যবস্থাপক খন্দকার মুহাম্মদ তানভীর হোসেন জানালেন,গতকাল(শনিবার)এই রুট দিয়ে পন্যবাহী ট্রাক,বাস, ছোট পরিবহনসহ পার হয়েছে আড়াই হাজার । আজ রোববার এই রুট ব্যবহার করে ফেরি যোগে পার হয়েছে বিকাল ৫টা পযন্ত এক হাজার ৪০টি।
ঘাটে ফেরি পার হতে আসা ট্রাকের চালক রুহুল আমীন জানালেন, তিনি শুক্রবার ভোররাতে এসছেন। কিন্তু এখনো ফেরি পার হতে পারেনি। তিনি অবশ্য রোবার বেলা ১১টার দিকে ফেরি পারের টিকেট হাতে পেয়েছেন। কুষ্টিয়ার ভেরামারা গামী আরেক ট্রাক চালক তিনি এসছেন চট্রগ্রাম থেকে। শুক্রবার ফেরিঘাটের অদুরে দুদিন আটকে থাকার পর রোববার ফেরিঘাটের দেখা পেয়েছেন। কিন্তু ফেরিপার হওয়ার সুযোগ মিলেনি। তাদের মতো বিভিন্ন স্থানে আটকে পরা আরো প্রায় ৩শতাধিক পন্যবাহী ট্রাক চালক ও সহকারীদের অবস্থা রীতিমতো নাভিশ্বাস। মালিক তাদের যে খুরাকিদিচ্ছে তা দিয়ে তিন বেলা হোটেলে খাওয়া কষ্টকর।
এছাড়া কয়েকজন ট্রাক চালক জানালেন, আজ তিন দিন ধরে ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকে আছি। কখন পার হবো তা এখনও বলতে পারছি না। সাথে থাকা টাকা ফুড়িয়ে এসেছে। বিকাশে টাকা এনে খাবার খেতে হচ্ছে তাদের।



