শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

পোশাক, জুতা, পত্রিকা থেকে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কতটা?

যত দিন যাচ্ছে, নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের চিন্তার পরিধি তত বাড়ছে। পোশাক, জুতা, চুল কিংবা পত্রিকা থেকে ভাইরাস ছড়ায় কি না, সেটি নিয়ে অনেকেই অন্ধকারে। ছড়ালেও ঝুঁকি কতটুকু, কীভাবে নিরাপদ থাকা সম্ভব অনেকে হয়তো এখনো জানেন না।
নামকরা সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বিখ্যাত সব বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এসব বস্তু থেকে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি নিতান্ত কম।
বাজার থেকে আসার পরপর গোসল করতে হবে কি না: সামাজিক দূরত্বের দিনগুলোতে দিনে একবার বাজারে গেলে ঘরে ঢুকেই গোসল করার দরকার নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাত ধোয়া। যদি মনে করেন বাজারে থাকার সময় আপনার আশপাশে কেউ কাশি দিয়েছে তাহলে এসেই পোশাক ধুয়ে ফেলতে হবে। কমপক্ষে ৩০ মিনিট পাউডার দিয়ে তখন ভিজিয়ে রাখতে হবে। আর জুতা ধরলে সঙ্গে সঙ্গে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।
এ বিষয়ে ভার্জিনিয়া টেক হাসপাতালের গবেষক লিনসি মারের বক্তব্য এমন, ‘কাশি থেকে বাতাসে ছড়ানো ড্রপলেট পোশাকে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম। এটি প্রায়ই মাটির দিকে চলে যায়। বায়ুগতিবিদ্যা অন্তত এমনটিই বলে।’
‘যখন কেউ কাশি দেয়, তখন আমরা অতটা নড়াচড়া করি না। যতটুকু করি তাতে ড্রপলেট বাতাসে নিচের দিকে যায়।’
ভাইরাস চুলে থাকে কি না: সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে চুল নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কেউ পেছনে দাঁড়িয়ে কাশি দিলেও এটি চুলের দিকে অসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের প্রশিক্ষক অ্যান্ড্রু জানোস্কি বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, ‘কিভাবে ভাইরাসটি সংক্রমিত করে, সেটি আগে বুঝতে হবে। হাঁচি-কাশির ড্রপলেট চুলে পড়লেও আসতে আসতে সংখ্যায় অনেক কমে যায়। আর মাথার দিকে এটি ভেসে আসে খুব কম। সব সময় নিচের দিকেই যায়। তাই ঝুঁকিও কম।’
ভাইরাস কোথায় কতক্ষণ জীবিত থাকে: লোহার মতো কঠিন পদার্থে নভেল করোনাভাইরাস সাধারণত তিন/চার দিন পর্যন্ত টিকে থাকে।
জার্নাল অব হসপিটাল ইনফেকশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জার্মানির গবেষকরা জানিয়েছেন, মোবাইলের মতো পদার্থে করোনাভাইরাসের জীবাণু ‘কয়েক দিন’ বেঁচে থাকে।
এ গবেষণাকে আমলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) জানিয়েছে, কপার জাতীয় পদার্থের ওপর কভিড-১৯ ভাইরাসটি চার দিন বেঁচে থাকতে পারে! তিন দিন থাকে প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলের ওপর।
শক্ত কাগজে এটি এক দিনের বেশি বাঁচতে পারে না। বাতাসেও তার সুবিধা হয় না, এখানে টিকতে পারে তিন থেকে চার ঘণ্টা।
যারা জিনস ব্যবহার করেন, তাদের প্রতিদিন ধোয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ কোনো উপায়ও অবলম্বনের দরকার নেই। সৌদি আরবের প্রাইম হাসপাতালের চিকিৎসক শ্যাম রাজমোহন এমনই পরামর্শ দিয়েছেন।
‘বিশেষ কিছু করতে হবে না। সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই হবে। প্রতিদিন ওয়াশের প্রয়োজন নেই। দুই থেকে তিনবার পরার পর করলে হবে।’
স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কারের পর লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন রাজমোহন। বলেন, ‘হাত যতবার পারা যায় ধোয়া ভালো। খাবার তৈরি করার আগে হাত পরিষ্কার করতেই হবে। বাইরে থাকা অবস্থায় নাকে, মুখে, চোখে স্পর্শ করা যাবে না। ঘরে ফিরে সব কিছুর আগে হাত ধুতে হবে।’
পত্রিকা থেকে ছড়ায় কি না: এখন পর্যন্ত যতগুলো গবেষণা হয়েছে, সব জায়গায় বলা হয়েছে পত্রিকা থেকে করোনা ছড়ায় না। এর মানে আবার এই না যে, আপনি সতর্ক থাকবেন না।
‘অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ’-এর ডিরেক্টর অধ্যাপক মধুমিতা দুবে বলেছেন, সংক্রমণ ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে আলাদা করে কাগজের ওপর জোর দেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘সংক্রমিত রোগীর ড্রপলেট শুধু কাগজ কেন, দরজার হাতল, চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটারসহ অনেক জায়গাতেই পড়তে পারে। তার পরে ওই ভাইরাসের আয়ুষ্কালের মধ্যে (যে আয়ুষ্কাল কার্ডবোর্ডের ওপরে ২৪ ঘণ্টা বলে এখন পর্যন্ত প্রমাণিত) যদি অন্য কেউ তার ওপরে হাত দেন এবং সেই হাত না ধুয়েই নিজের মুখ-নাকে দেন, তখন সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কাগজের ব্যাপারে আলাদা করে মাথা না ঘামিয়ে এসব জিনিস হাতের সংস্পর্শে আসার পরে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলার ওপরে জোর দেওয়া জরুরি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ‘কাগজের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়ানোর কোনো আশঙ্কাই নেই। কাগজ যা দিয়ে তৈরি, বিশেষ করে সংবাদপত্রের প্রক্রিয়াকরণের সময়ে যে সমস্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তার ওপরে ড্রপলেটের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব।’
বাইরে থেকে যদি কুরিয়ারে কোনো প্যাকেট আসে, তাহলে ধরার পর হাত ধুয়ে নেয়া ভালো। এরপরও শঙ্কা থাকলে ২৪ ঘণ্টা পর ওই প্যাকেট ধরতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button