পূজোতে মানিকগঞ্জের বাহারি নাড়ু

কদর ও দাম দুটোই বেড়েছে নারকেলের
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: পূজাকে ঘিরে থাকে নানা ধরনের মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারের লম্বা ফিরিস্তি। তার মধ্যে অন্যতম নাড়ু । কারণ পূজা মানেই বাহারি রঙের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের নাড়ু। তাই পূজা আসার মাসখানেক আগে থেকেই ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে বাড়িতে নানা রকম লাড্ডু ও নাড়ু বানানোর ধুম পড়ে যায়। আর নাড়– তৈরীর মূল উপাদান নারকেল। তাই জেলার সর্বত্রই নারকেলের কদর বৃদ্ধির সাথে মূল্যটাও বেড়েছে প্রায় ২/৩ গুণ।
মূলত মহাষষ্ঠী থেকেই শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা, আনন্দ, উত্তেজনা, ভোজ। হিন্দুদের সবচেয়ে বড় এ উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার। এসব খাবারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হাতে তৈরি নানারকম নাড়ু, লাড্ডু, নারকেল- গুড়ের মিষ্টান্ন ইত্যাদি।
ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের গৃহবধূ কৃষ্ণা সাহা জানান, প্রতিবার পূজাতে পরিবারের সবাই মিলে বেশ ঘটা করে নাড়ু-মুড়ি-সন্দেশ বানাই। নাড়ু তৈরিতে আমার মেয়ে জয়া সাহাও আমাকে সাহায্য করে। তিনি বলেন, এখন আর আগের মত বাড়ি বাড়ি এসব মিষ্টি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে আমার ছেলেমেয়েরা বন্ধুদের নাড়ু খাওয়ায়।
উপজেলার ঘিওর হাটে প্রতি জোড়া পাকা নারকেল আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১শ টাকা। নারকেলের পাইকারী বিক্রেতা অনীল সরকার জানালেন, মূলত পূজার জন্যই অন্যান্য সময়ের চেয়ে নারকেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা শহর ছাড়াও রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের অনেক স্থানেই কদর রয়েছে মানিকগঞ্জের নারকেলের।
মানিকগঞ্জের হিন্দু নারীরা দূর্গা পূজা ও এর পরবর্তী লক্ষী পূজাতে হরেক প্রকার প্রকারের নাড়ু বানান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নারকেলের নাড়ু, নারকেল আর চাল ভাজা বেঁটে তৈরি এক প্রকার শক্ত নাড়ু, তিলের নাড়ু, নারকেল আর মুড়ি বাটা মিশিয়ে তৈরি নাড়ু, চাল ভাজা গুঁড়োর নাড়ু এবং পেস্তা বাদাম, কাজু আর চাল বাটার নাড়ু, ঘন দুধের পায়েশ, ছানার সন্দেশ, জিলাপী, গুড় দিয়ে খৈ’য়ের মিশ্রন ইত্যাদি।
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক অতীন্দ্র চক্রবর্তী বিপ্লব বলেন, মানিকগঞ্জে পূজার উৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরই নয়, এটি সার্বজনীন উৎসব। আর পূজোয় দীর্ঘ কালপরিক্রমায় বাঙালিয়ানার অন্তর জুড়েই থাকে হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী নাড়– ও মিষ্টি জাতীয় খাবার। যার চাহিদা একনো অটুট; বহমান।




