পুলিশী রোষাণলে বদরগঞ্জের সাংবাদিক আশরাফুল জেলহাজতে

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক আশরাফুল আলম আপন নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় দায়ের করা পুলিশী মামলায় এখন জেলহাজতে। রোববার আদালতের পরোয়ানামূলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
আশরাফুল আলম আপন ইত্তেফাকের সাবেক উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার সংবাদ ও স্থানীয় দৈনিক প্রথম খবরের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। আশরাফুলের অভিযোগ- ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারী বদরগঞ্জ থানার এসআই সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার আসামীকে ধরতে গিয়ে বাদীর লোকজনের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগসহ নানাবিধ অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ ওই সময়ে ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। এঘটনায়
ক্ষুব্ধ হয়ে পরবর্তীতে এসআই সিরাজুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুর রহমানের যোগসাজসে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় দায়ের করা একটি পেণ্ডিং মামলায় গোপনে তার নাম জড়িয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে উভয় কর্মকর্তা বদলি হয়ে চলে যান।
আশরাফুল জানান, ওই মামলার বিষয়ে তিনি এতোদিন কিছুই জানতেন না। হঠাৎ করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১ টার দিকে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে। ওই মামলার নথিপত্র ঘেটে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বদরগঞ্জ থানার তৎকালিন এসআই সিরাজুল ইসলাম (বিপি নং ৬৮৮৮০৭২১৪৭) বাদী হয়ে ওই নাশকতার মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নম্বর ৬)। মামলার এজাহারে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সেক্রেটারিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন জামায়াত কর্মীকে আসামী করা হয়। ওই অজ্ঞাতনামা আসামীর তালিকায় সাংবাদিক আশরাফুলের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে পুলিশ।
এব্যাপারে ওই সময়ে বদরগঞ্জ থানার দায়িত্ব পালনকারী ওসি আখতারুজ্জামান নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক আশরাফুলের নাম জড়িয়ে আদালতে চার্জশীট দেওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি আমার অগোচরে হয়েছে। হয়তো কোন কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলার বাদী এসআই সিরাজুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
এবিষয়ে মামলার বাদী এসআই সিরাজুল ইসলামের কাছে সেলফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছুই জানি না। একথা বলেই তিনি ফোন কল বিচ্ছিন করে দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আতিকুর রহমান বলেন, আমি তদন্ত কর্মকর্তা হলেও সব কিছু করেছেন মামলার বাদী এসআই সিরাজুল ইসলাম। আমি যদি জানতাম সাংবাদিক আশরাফুলের নাম চার্জশীটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাহলে সেখানে সাক্ষরই দিতাম না। বদরগঞ্জ থানার বর্তমান ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, আদালতের পরোয়ানামূলে সাংবাদিক আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর বেশি বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে সাংবাদিক আশরাফুলকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ওই মামলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে বদরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুজার রহমান বলেন, সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম জামায়াত করাতো দূরের কথা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই জড়িত নয়। সেটা স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনও জানেন। মুলতঃ তৎকালিণ বদরগঞ্জ থানার এসআইয়ের রোষাণলের শিকার হয়েছেন আশরাফুল।



