পুঁজিবাদ নিত্য নতুন ফ্রন্ট খুলে যুদ্ধের ষড়যন্ত্র করছে : বাম নেতৃবৃন্দ

অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষে সিপিবি’র আন্তর্জাতিক সেমিনারে দেশী-বিদেশী বাম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, পুঁজিবাদ এখন দেশে দেশে নিত্য নতুন ফ্রন্ট খুলে যুদ্ধের ষড়যন্ত্র করছে। এতে বাড়ছে শোষণ, কমছে মৌলিক মানবাধিকার, বেঁচে থাকার সুযোগ। এ ধরণের অসহিষ্ণু পরিস্থিতিতেও পথ দেখাতে পারে একমাত্র অক্টোবর বিপ্লব। তারা অক্টোবর বিপ্লবের পথ ধরে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান।
অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে সিপিবি’র উদ্যোগে আজ শুক্রবার তোপখানা রোডের বিএমএ মিলনায়তনে ‘সমকালীন পুঁজিবাদ ও অক্টোবর বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টিও নেতৃবৃন্দ, দেশের শীর্ষ বামপন্থি রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা বক্তব্য রাখেন।
সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো। বক্তব্য রাখেন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদী (সিপিআইএম)’র পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাত, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবোধ পাণ্ডা, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল)’র কেন্দ্রীয় নেতা বিজয় বাহাদুর কুনাড়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান, ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাসদ’র সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক। সেমিনার পরিচালনা করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান তারিক চৌধুরী।
বৃন্দা কারাত বলেন, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গভেদে, জাত-পাতের নামে যে বৈষম্য সমাজে চলছে তার পরিচালক নয়া-উদারনীতিবাদ। পৃথিবীতে বৈষম্য এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ৩.৮ বিলিয়ন মানুষের সম্পদের সমান মাত্র আটজন ব্যক্তির সম্পদ। যেখানে মানব সমাজে উৎপাদন ব্যবস্থার এতো উন্নতি হয়েছে সেখানে খাদ্যের অভাবে মানুষ মারা যাবে এটা বরদাশত করা যায় না। রুশ বিপ্লব দেখিয়েছিলো মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ বৈষম্য মিটিয়ে দেয়া সম্ভব। আজকের দুনিয়ায় এ কারণেই রুশ বিপ্লব প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরো বলেন, ভারতের বহুত্ববাদী সমাজে সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী শক্তির যে উত্থান ঘটছে তার দ্বারা গোটা উপমহাদেশ আক্রান্ত হবে। শ্রমিক শ্রেণিকে অক্টোবর বিপ্লবের শিক্ষায় দীক্ষিত করে তার নেতৃত্বে এ অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
প্রবোধ পান্ডা তার বক্তব্যে বলেন, লগ্নিপুঁজির বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম এই সংগ্রাম সারা দুনিয়ার মেহনতি মানুষকে আজ এক করেছে। অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষে পৃথিবীর সর্বত্র সমাজতন্ত্রীদের লাল পতাকার মিছিল প্রমাণ করেছে এই যুগ সমাজতন্ত্রের যুগ। পুঁজিবাদের পতন শুধু অনিবার্যই নয়, অপরিহার্য বটে। তিনি সারা দুনিয়ার মার্কসবাদীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি জোরদার করার আহ্বান জানান।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, চলমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। মানুষের ওপর শোষণ ও নির্যাতন বন্ধে তাই সমাজতন্ত্রই ভরসা। এজন্য লাল পতাকাকেই ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের পতাকাতলে একত্রিত হতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, অক্টোবর বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন সারা দুনিয়ার মানুষের চিন্তা-চেতনাকেও প্রগতির অভিমুখে প্রভাবিত করেছিল। শক্তিশালী নারী-মুক্তি আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। গড়ে উঠেছিল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ও জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন।



