বিবিধশিরোনাম

পাথুরে পাহাড় চড়ায় অনল্ডের অতিমানবীয় কীর্তি

ধারণা করা হচ্ছে, রক ক্লাইম্বিংয়ে অ্যালেক্স অনল্ড যে রেকর্ড গড়েছেন, তা অক্ষত থেকে যাবে বহুকাল। কারণ খালি হাতে ক্যালিফোর্নিয়ার খাড়া পর্বত এল ক্যাপ্টেইনের পাথরের দেয়াল বেয়ে এর চূড়ায় ওঠার কথা অনেকে দুঃস্বপ্নেও ভাবেন না। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করে রক ক্লাইম্বিংয়ের সম্রাট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা অনল্ডকে নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
যে উচ্চতায় আর কেউ নয়
এতে কোনো সন্দেহ নেই, অ্যালেক্স অনল্ডই এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সেরা রক ক্লাইম্বার। রক ক্লাইম্বিং হলো খাঁড়া পাথুরে পাহাড় বেয়ে চূড়ায় ওঠা। এ ক্ষেত্রে পর্বতারোহীরা দড়ি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের জুনে অনল্ড যা করলেন তাকে অতিমানবীয় না বলে কোনো উপায় নেই। কারণ সেই সময়টিতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত এল ক্যাপ্টেইন পর্বতের চূড়ায় উঠে রেকর্ড গড়েন অনল্ড। প্রশ্ন জাগতে পারে, ওই পর্বতের চূড়ায় অনেকেই তো রক ক্লাইম্বিং করে ওঠে, তবে অনল্ড রেকর্ড গড়লেন কীভাবে? এই রেকর্ডের কারণ হলো প্রায় ৩ হাজার ২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এল ক্যাপ্টেইনের চূড়ায় উঠতে কোনো যন্ত্রপাতি তো দূরের কথা, একটি দড়িও ব্যবহার করেননি তিনি। এই উচ্চতা দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার চেয়েও অন্তত ৫০০ ফুট বেশি। সম্পূর্ণ খালি হাতে এমন অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য তাকেই এখন সর্বকালের সেরা রক ক্লাইম্বার মানছে সবাই।
এল ক্যাপ্টেইন পর্বতটি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিত ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত। এটি গ্রানাইট পাথরের একটি খাড়া পর্বত। পর্বতের পুরো কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে শুধু একটি পাথরের ওপর ভর করে। মার্কিন রক ক্লাইম্বার অনল্ড যখন কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই এল ক্যাপ্টেইনের চূড়ায় ওঠেন, তখন তার বয়স ছিল ৩৩ বছর। যদি তিনি কোথাও পিছলে যেতেন, তবে হাজার ফুট ওপর থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু ছিল অবধারিত। দড়ি কিংবা অন্য কোনো সরঞ্জাম ছাড়া খাঁড়া পর্বত বেয়ে ওঠার এই পদ্ধতিকে বলা হয় ফ্রি সলোইং।
এল ক্যাপ্টেইন জয় করার পর সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনল্ড বলেছিলেন, ‘যখন বুঝতে পারলাম আমি দারুণভাবে ক্লাইম্বিং করছি, তখন আমি আরও একাগ্রতা উপলব্ধি করেছি। এটা দারুণ এক প্রশান্তি ও সৌন্দর্য।’
অনল্ডের সেই অতিমানবীয় কীর্তি নিয়েই নির্মিত হয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির তথ্যচিত্র ‘ফ্রি সলো’। ২০১৯ সালে এই তথ্যচিত্রটি বিএএফটিএ অ্যাওয়ার্ড ছাড়াও জিতে নেয় অস্কারও।
মৃত্যু অথবা যথার্থতা
রক ক্লাইম্বিংয়ে ‘ফ্রি সলো’ হলো দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ একটি খেলা। হয় সঠিকভাবে এক চুল ভুল না করে পাথর বেয়ে ওপরে উঠতে হবে, নয়তো নিশ্চিতভাবেই মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে হৃৎস্পন্দন প্রায়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অ্যালেক্স অনল্ড বলেন, ‘এল ক্যাপ্টেইন পর্বতে চড়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি ছিল পুরোটা সময়জুড়ে স্বাভাবিক থাকা। সহজ মনে করে এগিয়ে গেলে কাজটাও সহজ হয়ে যায়।’
চূড়ায় আরোহণ করতে গিয়ে এল ক্যাপ্টেইন পর্বতের পাথরের দিকে চেয়ে অনল্ড সব সময় এটাই ভেবেছেন, অন্য আট-দশটি ক্লাইম্বিংয়ের মতোই এটিও একটি সহজ ক্লাইম্বিং। মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার এ কাজটি অনেকের কাছেই অপ্রীতিকর হতে পারে। তবে, এটা বুঝতে কারও বাকি থাকার কথা নয় যে, এমন অসামান্য কাজের জন্য কতটা শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে অনল্ড নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। এক সতর্ক বার্তায় অনল্ড বলেন, ‘কী করতে যাচ্ছি তা যদি আমি না জানি কিংবা সামান্য ধাঁধার মধ্যে পড়ে যাই, তবে এটি এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।’
এল ক্যাপ্টেইনের চূড়ায় ওঠার ক্ষেত্রে অনল্ডের প্রতিটি মুভ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। কয়েক মাস আগে থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলেন তিনি। তার মতে, পড়ে না যাওয়ার প্রধান কৌশলটি হলো সুযোগের জন্য কোনো কিছুকেই হাতছাড়া না করা এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিণতির জন্য মনকে প্রস্তুত রাখা। এ ক্ষেত্রে শরীরের চেয়ে মানসিক চ্যালেঞ্জটাই বড়।
রক ক্লাইম্বিইয়ের সাজসরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবারই এল ক্যাপ্টেইনের চূড়ায় উঠেছেন অনল্ড এবং আরও বেশ কয়েকজন ক্লাইম্বার। কিন্তু কোনো কিছু ছাড়াই খালি হাতে এ কাজটি করার সাহস এখন পর্যন্ত কেবল অনল্ডই দেখাতে পেরেছেন।
নুড়ি সমস্যা
খালি হাতে এল ক্যাপ্টেইন জয়ের সময় পর্বতটির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকটি বেছে নিয়েছিলেন অনল্ড। এই দিকটিতে অন্তত ৩০টি ভিন্ন ভিন্ন উতরাই রয়েছে। তবে এই পথটির একটি বড় সমস্যা হলো ছোট ছোট নুড়ি পাথর। সমতল থেকে প্রায় দুই হাজার ফুট উচ্চতায় ওঠার পর মটর দানার মতো ছোট ছোট এসব পাথরের টুকরো অনল্ডের পথকে বেশ জটিল করে তুলেছিল।
একটি জায়গা এমন ছিল যে, কোনো রকমে ঝুলে থাকা অবস্থায় পর্বতপৃষ্ঠের কাছাকাছি আরেকটি দেয়ালে কারাতে খেলোয়াড়দের মতো লাফ দিয়ে পা ছুঁয়ে ঘুরে ওপরের আরেকটি স্তরে নিজেকে আটকে নিয়েছেন তিনি। অনল্ড বলেন, ‘চূড়ায় ওঠার পথে যদি এই অংশটি না থাকত, তবে আমি আরও কয়েক বছর আগেই ফ্রি সলোর কাজটি করে ফেলতাম।’ পথের এই অংশটি দড়ির সাহায্য নিয়ে এর আগে অন্তত ৬০ বার প্র্যাকটিস করেছিলেন তিনি। আর প্রশিক্ষণের সময় এ অংশটিতে বেশ কয়েকবারই হাত ফসকে পড়ে গেছেন তিনি। যদিও প্রতিবারই দড়িতে ঝুলে পড়েছিলেন। পরে খালি হাতে যখন এ অংশটি পাড়ি দিচ্ছিলেন, সে সময়টিতে ক্লাইম্বিংয়ের দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসীও।
স্প্রিন্ট ফিনিশ
দুই হাজার ফুট ওপরের সেই অসম্ভব অংশটি পাড়ি দেওয়ার পর অনল্ডের শ্বাস-প্রশ্বাস বেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে। যদিও তার আরও বহু পথ পাড়ি দেওয়া বাকি রয়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে অবসন্ন হয়ে আসছিল শরীর। তাই পর্বতের শেষ ধাপগুলো পাড়ি দেওয়ার মুহূর্তটি ছিল তার ক্লাইম্বিং জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়। কিন্তু কোনো কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। কারণ তার আত্মবিশ্বাসও চূড়ায় ছিল তখন। স্টিলের মতো স্থবির তার চোখ দুটিতে তখন কেবল এল ক্যাপ্টেইনের চূড়াটিই ভাসছিল। অনেকেই তার সেই অবিশ্বাস্য অভিযাত্রাকে স্বচক্ষে দেখছিলেন। তাদের কাছে এটি একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হলেও অনল্ডের কাছে তা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। শেষ ধাপগুলো খুব দ্রুততার সঙ্গেই শেষ করে চূড়ায় আরোহণ করেন তিনি। মাটি থেকে এল ক্যাপ্টেইনের চূড়ায় পৌঁছাতে তার ৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিটের মতো সময় লাগে। চূড়ায় উঠে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাকে অবিশ্বাস্য আনন্দের অনুভূতি হিসেবে ব্যক্ত করেন তিনি।
দড়ি ছাড়া কেন
রক ক্লাইম্বিংয়ের সঙ্গে অন্তত ২০ বছর ধরে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত আছেন অনল্ড। বেড়ে উঠেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহরতলিতে। কৈশোরে পা দিয়ে স্থানীয় একটি জিমের ভেতরে ওয়াল ক্লাইম্বিংয়ের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন তিনি। একটি উঁচু দেয়ালের মধ্যে ধরার মতো কয়েকটি বস্তুকে অবলম্বন করে ওপরের দিকে উঠতে হয় এই পদ্ধতিতে। ক্লাইম্বিং শেখার সেই পাঠশালাটিকে মনেপ্রাণে ধারণ করেছিলেন অনল্ড। ফলে শিগগির তিনি ক্লাইম্বিংয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন। অবস্থা এমন দাঁড়ায়, কিশোর বয়সেই নিজের শহরে তিনি তারকাখ্যাতি লাভ করতে শুরু করেছিলেন। এমন তারকাখ্যাতি সামাজিকতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও ক্লাইম্বিংয়ের নেশা থেকে এক চুলও সরেননি। বরং দিনে দিনে নিজেকে আরও উন্নত অবস্থানে নিয়ে যেতে শুরু করেন। ইনডোর ছেড়ে বাইরের বিভিন্ন ছোট ছোট পাহাড়ে চড়ায় অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন তিনি।
ফ্রি সলোইং বা দড়ির সাহায্য ছাড়া খাঁড়া কিছু বেয়ে ওপরে ওঠার তাড়না সেই বয়সেই শুরু হয়েছিল অনল্ডের। তিনি বলেন, ‘এটি আমার ক্লাইম্বিং জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। ক্লাইম্বিংয়ের ক্ষেত্রে ফ্রি সলোইং-ই সবকিছু নয়, এটা ক্লাইম্বিংয়ের একটি অংশমাত্র। তবু এটি এমন একটি অনুভূতি, যার সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা চলে না। এটা দারুণ, এটা মজার।’
ভ্রমণ ও বসবাসের জন্য ছোট একটি ক্যারাভান রয়েছে অনল্ডের। মাঝেমধ্যেই এই ক্যারাভান নিয়ে কয়েক দিনের জন্য ক্লাইম্বিংয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি। এভাবেই দিনে দিনে ক্লাইম্বিংয়ের প্রতি পদক্ষেপে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তিনি একের পর এক খাঁড়া পাহাড়ে চড়তে শুরু করেন। তবে, এল ক্যাপ্টেইনের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জটি তিনি বহু দিন ধরেই মনের মধ্যে লালন করেছেন। এক পাথরের সুউচ্চ এই পর্বতটিকে রক ক্লাইম্বিংয়ের মক্কা বলে মানা হয়। একসময় এই পর্বতও জয় করেন অনল্ড। কিন্তু পরে দড়ি ছাড়া সম্পূর্ণ খালি হাতে এল ক্যাপ্টেইনের চূড়ায় উঠে ইতিহাস গড়েন। এর মধ্য দিয়ে রক ক্লাইম্বিংয়ের অঘোষিত সম্রাটে পরিণত হয়েছেন তিনি।
তবে কোনো ইতিহাস গড়া নয়, ক্লাইম্বিংয়ের নেশা থেকেই এল ক্যাপ্টেইনে ফ্রি সলোইং করতে চেয়েছিলেন অনল্ড। নিজের কীর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, যারা নভোচারী তারা জীবনে একবার হলেও চাঁদের মাটিতে হাঁটার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু আপনি যদি প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের মাটিতে পা রাখেন তবে এটি আপনার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে।’
ব্যক্তিজীবনে রক ক্লাইম্বিং করতে গিয়ে অনেক বন্ধুকেই মরে যেতে দেখেছেন অনল্ড। ওই মৃত বন্ধুরাও তার অনুপ্রেরণার উৎস। আরেকটি কঠিন সত্য হলো এল ক্যাপ্টেইনে ফ্রি সলোইংয়ের কিছুদিন আগে মনোমালিন্যের জের ধরে প্রেমিকা সানি ম্যাকেন্ডলেস অনল্ডকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় ফেলে যায়। তবে এ ব্যাপারটি স্মরণ করে অনল্ড বলেন, ‘এটি আমাদের দুজনের জন্যই ভালো হয়েছিল। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আর কখনোই কোনো কথা হয়নি। এর ফলে আমি অনেক ফাঁকা সময় পেয়েছি, নিজেকে সময় দিয়েছি, আবেগ দিয়ে নিজের অভিযাত্রাকে অনুভব করেছি।’
ছেড়ে গেলেও এল ক্যাপ্টেইন অভিযানের আগে আগে আবার অনল্ডের কাছে ফিরে আসেন সানি। চলতি বছরের শুরুর দিকে একে অন্যকে বিয়ে করে সম্পর্ককে পাকাপোক্ত করেছেন তারা। বছর শুরুর আগেই বড়দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে অনল্ড লিখেছিলেন, ‘আমার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেছে সানি। মেরি ক্রিসমাস!’ রক ক্লাইম্বিংয়ে দুর্দান্ত নেশা আছে সানিরও। এই ক্লাইম্বার জুটি সম্প্রতি বিয়ে করলেও তাদের প্রেমের সম্পর্ক বহু পুরনো।
শরীর, মন আর বিজয়
মানসিক দৃঢ়তা শারীরিক সক্ষমতাকে বহু গুণ বাড়িয়ে তোলে। এল ক্যাপ্টেইনে ফ্রি সলোইংয়ের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খাঁড়া যে অংশটি ছিল, তা পাড়ি দিতে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি ফাটলের সাহায্য নিয়েছিলেন অনল্ড। ধারণা করা হয়, এই অংশটি পাড়ি দেওয়ার জন্য শারীরিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে মানসিক দৃঢ়তাই ছিল অনল্ডের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এখন পর্যন্ত হাজার হাজার ঘণ্টা রক ক্লাইম্বিং করেছেন অনল্ড। এসব ক্লাইম্বিংয়ের চিহ্ন তিনি সারা শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। কারণ বহুবারই তার শরীরে আঘাত পেয়েছেন। হাতের ব্যথা নিয়ে তিনি বহু সময় অলস বসে কাটিয়েছেন।
ছয় ফুটের চেয়ে একটু কম উচ্চতার অনল্ড নিরামিষাশী। ফলে তার শরীরে বাড়তি মেদ নেই। আর এই ব্যাপারটিই রক ক্লাইম্বিংয়ে তাকে দারুণ ছন্দ দিয়েছে। তার মনও এভাবেই গড়ে উঠেছে। একটি ডকুমেন্টারিতে দেখা গেছে, অনল্ড একবার এমআরআই স্ক্যানে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এতে এক অদ্ভুত ব্যাপার দেখা গেল যে, অনল্ডের অ্যামিগডালা বা মস্তিষ্কের যে অংশটিতে ভয়ের অনুভূতি হয় সেই অংশটি স্বাভাবিক উপায়ে উদ্দীপ্ত হয় না। অর্থাৎ মানসিক দৃঢ়তার জন্যই ভয়ের কাছ থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছেন তিনি। অনল্ড মনে করেন দীর্ঘদিন ধরে ক্লাইম্বিংয়ের অভিজ্ঞতাই তার ভয়ের অনুভূতিটিকে অনেক মøান করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমি যখন ফ্রি সলোইং করতাম তখন কিছুটা ভয় ভয় লাগত। কিন্তু আসলে এ ব্যাপারটিই উপভোগ করার মতো একটি বিষয়।’
পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে এল ক্যাপ্টেইন পর্বতে অনল্ডের ফ্রি সলোইং করার মুহূর্তগুলো ধারণ করে নির্মিত হয়েছে ‘ফ্রি সলো’ নামের ডকুমেন্টারিটি। এটি নির্মাণ করেছেন পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা এলিজাবেথ চাই ও জিমি চিন। খালি হাতে এল ক্যাপ্টেইন বিজয়ের দুই বছর আগে থেকেই এর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন অনল্ড। তার প্রস্তুতিকালেরও বেশ কিছু ফুটেজ রয়েছে ডকুমেন্টারিতে।
নির্দিষ্ট দিনে অনল্ড যখন এল ক্যাপ্টেইনে ফ্রি সলোইং করছিলেন, তখন তার সেই মুহূর্তটিকে ধারণ করার জন্য দড়ির সাহায্য নিয়ে তার থেকে কিছু দূরত্বে অবস্থান করছিলেন রক ক্লাইম্বিংয়ে অভিজ্ঞ ক্যামেরাম্যানরা। আর পর্বতের চূড়ায় তার জন্য অধীর হয়ে বসেছিল বন্ধুরা। তাদের সঙ্গে আবার মিলিত হওয়ার আকাক্সক্ষাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হলো অ্যালেক্স অনল্ডের জীবনে।
সুত্র : দেষ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button