পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির অনেক অবদান

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ : পাখি আমাদের উপকারি বন্ধু। যারা ফসলের পোকা মাকড় খেয়ে আমাদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। ফসলের যেমন উপকারি পোকা রয়েছে তেমনি রয়েছে অনেক ক্ষতিকর পোকামাকড়। যে ক্ষতিকর পোকাকে বিনাশ করতে আমাদের ব্যবহার করতে হয় কেমিক্যাল যুক্ত রাসায়নিক বিষ। যেগুলো আমাদের শরীর স্বাস্থ্যর খুবই ক্ষতিকর। পাখি আমাদের যেমন নিরাপদ খাবার খেতে সহায়ক ভুমিকা রাখে । তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের অবদান রয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা পদ্মা নদী বেষ্টিত এলাকা । নদী নালা, খাল বিল, ডাঙ্গা, জলাশয় রয়েছে। আর আছে বিভিন্ন ধরনের গাছ পালা। যেখানে দেখা মেলে বক, শালিক, ডাহুক, পানকৌড়ি, ঘুঘু, পেটা, হটটিটি, সাড়শ, বাবই, ফেসকা সহ নানান ধরনের পাখি । শীতকালে পদ্মা নদীতে দেখা মেলে বিভিন্ন অতিথি পরিযায়ী পাখি।
কিন্তু দিনদিন আমাদের মাঝ থেকে এসব পাখি কমে যাচ্ছে। পাখির সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ার ফলে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। ফলে মানুষের টিকে থাকার ক্ষমতা হারাচ্ছে। কারন পাখির সংখ্যা যত কমবে ক্ষতিকর পোকা তত বাড়তে থাকবে। যার কারণে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশকের বেড়েই চলছে। এই কীটনাশক যেমন বায়ু দূষণ করছে, তেমনি বিষাক্ত করে তুলছে খাবারকেও। কৃষি চাষাবাদে বেড়ে চলছে মাত্রাধিক খরচ।
কৃষি –পরিবেশ- নিরাপদ খাদ্য উৎপাদেন আমাদের পাখিকে রক্ষা করতে হবে। পাখি রক্ষায় গড়ে তুলতে হবে জনসচেতনতা। জোরদার করতে করতে হবে সরকারী আইনী সহায়তা। হরিরামপুর উপজেলা লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে নটাখোলা গ্রামের তরুন যুবক ফয়সাল হোসেন বলেন, পাখির গুরুত্ব এবং উপকারিতা বিষয়ে গ্রাম পর্যায়ে আরো জনেসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রাম গঞ্জে এখনও শিশু ও বয়স্ক মানুষকে পাখি মারতে দেখা যায়।
এই বিষয়ে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এলাকায় যদি কেউ পাখি মারে বা বাজারে বিক্রি করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বারসিক হরিরামপুর তথা মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাখি রক্ষায় মানববন্ধন, আলোচনা সভা এবং বিলবোর্ড দিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।
নটাখোলা গ্রামের স্বাস্থ্য সহকারি ফরহাদ হোসেন বলেন, বারসিক ও পালক এর সহযোগিতায় পাশের জেলা ফরিদপুর সিএন্ডবি খেয়াঘাট, টেপাখোলা, চুনাঘাট এলাকায় সচেতনমুলক বিলবোর্ড দেখেছি । যা দেখে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরো জানান পাখি রক্ষায় সরকারি বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠনকে এগিয়ে আসা প্রত্যাশা জানান।




