sliderস্থানিয়

নিয়ামতপুর-মান্দার রাজখাড়া দেবোত্তর ষ্টেটের সম্পত্তি ভূমি দুর্স্যুদের হাতে

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী এলাকার গড ফাদার ও ভূমি দর্স্যু সাধন চন্দ্র মজুমদার ও তার দোসরা নিয়ামতপুর-মান্দা এলাকার রাজখাড়া দেবোত্তর ষ্টেটের প্রায় ১ হাজার ৪শত বিঘা সম্পত্তিতে ঐ দেবোত্তর সম্পত্তির দেবায়েতদের
ঢুকতে দেয়নি। তারা জোরপূর্বক সমস্ত সম্পত্তি ভোগ দখল করে খেয়েছে। ২৪ সালের ৫ আগষ্ট
আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরেও ঐ একই কায়দায় বিএনপির নামধারী কিছু ভূমি দর্স্যু সেই
সম্পত্তি ভোগ দখলের পায়তারা করছে। এমনটায় অভিযোগ করেছে নিয়ামতপুর-মান্দা রাজখাড়া ষ্টেটের উত্তরাধীকারী জমিদার কালিপদ রায়ের নাতি অশোক রায় বাপ্পি (অমিত রায়ের ছেলে)। এই সকল সম্পত্তি ঠাকুর মান্দার জমিদার কালিপদ রায় ও দেবিপদ রায়ের।

১৯৪৯ সালে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ হলে ১৯৫১ সালে ২ নং ইবি এ্যাক্টের চ্যাপ্টারের ৪ বিধি মতে বাং ১৩৬৩ সালে জমিদারের সকল সম্পত্তি সরকার অধিগ্রহন করে নেয়। দেবোত্তর ষ্টেটের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য বোর্ড অব রেভিনিউ ১৯৭২ সালের ১৫ জুন আদেশ জানালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৫০/৭৫ ক্ষতিপূরণ কেস হিসাবে রুজু করা হয়। ১৯৭৯ সালের ৬ জুন ও ১৯৮৬ সালের ৬ নভেম্বর কেসটির নিস্পত্তি হয়। যার স্মারক নং রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ৪৮৯ আরএম শাখা তারিখ ৫/৭/১৯৮৮।

ঐ ক্ষতিপূরণ নিস্পত্তি বাবদ সরকার রাজখাড়া দেবোত্তর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতার নামে
২৫০/৭৫//০২/১৫/৯৮ স্মারকে ২০০২ সালের ২ অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৪নং শাখার ২০০২-৮৮০ নং স্মারকে ১ নং খাস খতিয়ান থেকে১ হাজার ৪শত বিঘা সম্পত্তি তাদের পছন্দমত নিতে হাই কোর্ট নির্দেশ প্রদান করেন। তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন। ১ হাজার ৪শত বিঘার মধ্যে দীঘি, পুকুর ও চাষযোগ্য জমিও রয়েছে। হাই কোর্ট এও নির্দেশ প্রদান করেন যে, তাদের পছন্দ মত সম্পত্তি শ্রী শ্রী জয় কালি মাতার নামে হোল্ডিং খোলা ও খাজনা গ্রহনেরও । অথচ শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা ও শ্রী শ্রী শরৎ কালি মাতা দেবোত্তর ষ্টেটের ঐ সমস্ত সম্পত্তিতে বিগত ২০১১ সাল হতে ২০২৪ সালের আগষ্ট পর্যন্ত যেতে পারে নাই। এখনও যেতে পারছে না।

হাই কোর্ট ঐ সকল সম্পত্তি সরকারীভাবে ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ প্রদান
করেছেন। এই সমস্ত সম্পত্তি নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে রয়েছে। অথচ এত
বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত দেবোত্তর ষ্টেটের সেবায়েতগণ কোন সম্পত্তিতে যেতে পারছে
না।

অশোক রায় বাপ্পি আরো বলেন, আমরা দেবোত্তর সম্পত্তি কাগজ অনুযায়ী বুঝিয়ে নিতে গেলেই
ভূমি দর্স্যুরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনটি হত্যারও হুমকি দিচ্ছে। আমি বিএনপির হাই কমান্ডে নিকট আকুল আবেদন শ্রী শ্রী জয় কালি মাতার নামে রাজখাড়া দেবোত্তর ষ্টেটের সম্পত্তি ন্যায় সংগতভাবে উদ্ধারের সার্বিক সহযোগতা করবেন এই প্রত্যাশা করি। বিগত সরকারের দোসররা যেভাবে জবর দখল করে রেখেছিলো, এখন যেন তা না পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তা না হলে গুটি কয়েক বিএনপি নামধারী ভূমি দর্স্যুর কারণে বিএনপির মত একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button