আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসনবিষয়ক দফতরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী সাইমন হেনশ বলেছেন, নিরাপত্তা ও অধিকারের নিশ্চয়তা পেলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে রাখাইন সঙ্কট নিরসনে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এই সুপারিশে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের পথও বাতলে দেয়া হয়েছে।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর আজ বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে হেনস এসব কথা বলেন।
তিনি ২৯ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার সফর করেছে।
এছাড়া তারা দুই দেশের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দাতা ও মানবিক ত্রাণ সহায়তা সংস্থাগুলোর সাথে বৈঠক করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলটির সাথে যোগ দেন।
হেনশ বলেন, রোহিঙ্গাদের অবস্থা খুবই করুণ। আমরা শরণার্থী শিবিরে যা দেখতে পেয়েছি তা খুবই ভয়াবহ। অনেক শরণার্থী তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার গল্প বলতে বলতে কেঁদে ফেলেছেন। তাদের মুখে আমরা জানতে পারি, কিভাবে তাদের সামনে কাছের মানুষদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অনেক শরণার্থী পালিয়ে আসার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এবং মানবিক সংস্থাগুলোর উদারতা ও প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পর অন্যান্য দাতারাও উদারভাবে এগিয়ে এসেছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো অনেক কাজ করতে হবে। আরো অর্থের প্রয়োজন। সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা অন্যান্য দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
মিয়ানমার সফরের ওপর আলোকপাত করে হেনশ বলেন, আমরা সরকারি কর্মকর্তা, রোহিঙ্গা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে আলোচনা করেছি। এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের একটি ক্যাম্পও পরিদর্শন করেছি। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে সুরক্ষা দেয়া, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতার অভিযোগগুলো তদন্ত করে অভিযুক্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে তা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের জন্য উৎসাহ দিয়েছি। আমরা বিশেষ করে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়েছি, যাতে উদ্বাস্তুরা স্বেচ্ছায় নিজ গ্রামে ফিরে আসতে পারে।
মিয়ানমারে যা ঘটেছে তা আইনগত সংজ্ঞায় জাতিগত নিধনের আওতায় পড়ে কিনা প্রশ্ন করা হলে হেনশ বলেন, এটা নির্ধারণ করা আমার কাজ না। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
রাখাইন রাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পূর্ণ প্রবেশাধিকার পেয়েছিল কি না – প্রশ্ন করা হলে হেনশ সরাসরি উত্তর দেয়া থেকে বিরত থেকে বলেন, সংবাদ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক এনজিওরা এখনো উত্তর রাখাইনে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পায়নি। উত্তর রাখাইনে অবাধ প্রবেশাধিকারের জন্য আমরা মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে হয়েছে। তবে তা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
হিদার নুয়ার্ট বলেন, শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে আমরা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যাই। সেদিনই দুই হাজার শরণার্থী এসেছে। তাদের সবাই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শরণার্থীদের ছোট একটি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। আমরা দেখলাম রেডক্রসসহ অন্যান্য ত্রাণ সংস্থাগুলো খুবই নিবিড়ভাবে তাদের যত্ন নিচ্ছে। ছোট শিশুদের অস্থায়ী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো।
তিনি বলেন, শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ হৃদয়ের দুয়ার খুলে দিয়েছে। দেশটি ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। শরণার্থীরা হয়তো বাড়িতে নেই। তবে তারা নিরাপদে রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button